রায়েন্দা নিউজ

news.rayenda.com · ছাপার তারিখ: ৩০ আগস্ট ২০২৬

শিক্ষা

৫৭ শতাংশ স্কুলে পাঠের সঙ্গে উপকরণের মিল নেই, মুখস্থনির্ভর শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৭ আগস্ট ২০২৬, ৩:৪১ রাত

৫৭ শতাংশ স্কুলে পাঠের সঙ্গে উপকরণের মিল নেই, মুখস্থনির্ভর শিক্ষার্থীরা
ছবি: প্রথম আলো

পুরান ঢাকার ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে নবম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞানের ক্লাস। গত ১৯ আগস্ট ‘বিভব শক্তির সংরক্ষণশীলতা’ বোঝাতে শ্রেণিকক্ষে সরল দোলক ব্যবহার করছিলেন সহকারী শিক্ষক আবদুল্লাহ আল নাহিয়ান। দোলকের দোলন দেখিয়ে বোঝাচ্ছিলেন শক্তির রূপান্তর ও সংরক্ষণশীলতার ব্যাপারটি।

শিক্ষার্থীরা বিষয়টি ধরে ফেলছিল সহজেই। এই শিক্ষকের মতে, পাঠের সঙ্গে মিল রেখে ঠিক শিখন উপকরণ ব্যবহার করলে কঠিন বিষয়ও শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ হয়ে ওঠে।

কিন্তু দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বড় অংশে এই ছবিটা নেই। শ্রেণিকক্ষে উপকরণ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তার সঙ্গে পাঠ্য বিষয়বস্তুর মিল নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা যা শেখার কথা, তা আদৌ কতটা শিখছে—প্রশ্নটা থেকেই যায়। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই তাদের ভরসা করতে হচ্ছে মুখস্থবিদ্যার ওপর।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সাম্প্রতিক পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক চিত্র। গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সারা দেশে ৫ হাজার ৪৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৭৪৭টিতে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করা হয়েছে।

এসব বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশেই ব্যবহৃত শিখন উপকরণের সঙ্গে পাঠ্য বিষয়বস্তুর সংগতি নেই। সমস্যা কেবল উপকরণেই থেমে নেই—শিক্ষার্থীরা কী শিখছে আর শেখার অগ্রগতি কতদূর, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থাতেও বড় দুর্বলতা ধরা পড়েছে। পরিদর্শন করা বিদ্যালয়গুলোর ৫২ শতাংশেই ধারাবাহিক মূল্যায়নের রেকর্ড যথাযথভাবে রাখা হয় না।

মাউশির প্রতিবেদনে শিখন উপকরণের ব্যবহার আর ধারাবাহিক মূল্যায়ন—এই দুটিকেই চিহ্নিত করা হয়েছে গুণগত শিখন-শেখানো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হিসেবে।

২ হাজার ৭৪৭টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশে ব্যবহৃত শিখন উপকরণ পাঠ্য বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। পরিদর্শন করা বিদ্যালয়গুলোর ৫২ শতাংশে ধারাবাহিক মূল্যায়নের রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয় না।

শিখন উপকরণ বলতে কী

শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঘাটতি কেবল উপকরণের নয়—শ্রেণিকক্ষে সেগুলোর যথাযথ ব্যবহারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উপকরণের সঙ্গে পাঠ্য বিষয়বস্তুর মিল না থাকলে শিক্ষার্থীদের বুঝতে সমস্যা হয়। তাতে কাঙ্ক্ষিত শিখনফল অর্জিত হয় না, বরং তৈরি হয় শিখনের ঘাটতি।

শিখন উপকরণ বলতে ঠিক কী কী বোঝানো হয়েছে, প্রতিবেদনে তা নেই। তবে শিক্ষকেরা একটি ধারণা দিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, বিষয়ভেদে উপকরণ নানা রকম। পদার্থবিজ্ঞানে ‘বিভব শক্তির সংরক্ষণশীলতা’ বোঝাতে সরল দোলক একটি উপকরণ। বিজ্ঞানের অন্য বিষয়ে লাগে টেস্টটিউব, বিকার, ফানেল, মেজারিং সিলিন্ডার, বিবর্ধক কাচ (ম্যাগনিফাইং গ্লাস), চুম্বক, তার কিংবা ছোট বাল্বের মতো নানা কিছু।

ঢাকার একটি সুপরিচিত বিদ্যালয়ের একজন বিজ্ঞান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা শিক্ষার্থীদের ব্যাঙের শরীর ব্যবচ্ছেদ শেখান। অথচ অনেক বিদ্যালয়েই সেটি শেখানো হয় না। এভাবে বিজ্ঞানের বহু বিষয়ই শিক্ষার্থীদের না বুঝে মুখস্থ করতে হয়।

গ্রাম বা উপজেলা পর্যায়ের অবস্থা জানতে যোগাযোগ করা হলে ঝিনাইদহ জেলার এক উপজেলার একজন সহকারী পরিদর্শক প্রথম আলোকে বলেন, একটি বিদ্যালয়ের কৃষিশিক্ষা ক্লাসে গিয়ে তিনি দেখেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক কোনো উপকরণই ব্যবহার করছেন না। কৃষিশিক্ষায় কী কী উপকরণ থাকার কথা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধরা যাক ধান রোপণ শেখানো হবে; সে জন্য চারার ব্যবস্থা করা যায়, তাতে শিক্ষাটা হয় হাতে-কলমে।

যেভাবে হয় পরিদর্শন

মাউশির আওতাধীন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২০ হাজারের বেশি। প্রতি তিন মাস অন্তর ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমের (ডিএমএস) আওতায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে মাউশির পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখা। গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে পাঁচ হাজারের বেশি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে তৈরি হয়েছে বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনটি।

প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের বই বাসায় নিয়ে পড়ার সুযোগ, শিক্ষক-কর্মচারীদের অননুমোদিত অনুপস্থিতি, যৌন হয়রানির অভিযোগসহ নানা বিষয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি মাউশির মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়েছে।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষকেরা যেন পাঠদানের সময় সঠিক ও সংগতিপূর্ণ শিখন উপকরণ ব্যবহার করেন, সে বিষয়ে বিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করার পাশাপাশি মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে।

উপকরণ আছে, ব্যবহারে ঘাটতি

শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় উপকরণ একেবারেই নেই—ব্যাপারটা তেমন নয়। পরিদর্শন করা ২ হাজার ৭৪৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২ হাজার ৯৮টিতেই শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর প্রয়োজনীয় উপকরণ আছে। অর্থাৎ বেশির ভাগ বিদ্যালয়েই কোনো না কোনো উপকরণ রয়েছে। কিন্তু সেই উপকরণ দিয়ে শিক্ষক কী শেখাচ্ছেন আর তা পাঠের সঙ্গে কতটা মেলে—বড় ঘাটতিটা ঠিক সেখানেই।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ১ হাজার ৫৫৭টি বিদ্যালয়ে ব্যবহৃত শিখন উপকরণ পাঠের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। বিপরীতে ১ হাজার ১৯০টি বিদ্যালয়ে ব্যবহৃত উপকরণের সঙ্গে পাঠের মিল আছে।

অসংগতিপূর্ণ উপকরণ ব্যবহারে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা অঞ্চল—৩২১টি বিদ্যালয়। এরপর ময়মনসিংহে ২৪৯টি, খুলনায় ১৯৪, রংপুরে ১৯৩, বরিশালে ১৫৩, চট্টগ্রামে ১৩৫, রাজশাহীতে ১৩২, কুমিল্লায় ১১১ আর সিলেট অঞ্চলে ৬৯টি।

শিক্ষকেরা যেন পাঠদানের সময় সঠিক ও সংগতিপূর্ণ শিখন উপকরণ ব্যবহার করেন, সে বিষয়ে বিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করার পাশাপাশি মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে।
— খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, মহাপরিচালক, মাউশি

একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছবি প্রতিবেদনে এসেছে আলাদা করেই। খুলনা অঞ্চলের ঝিনাইদহের শৈলকুপার একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির কৃষিশিক্ষার ক্লাস পরিবীক্ষণের সময় দেখা যায়, ব্যবহৃত উপকরণের সঙ্গে পাঠের সংগতি নেই। শুধু তা-ই নয়, শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর প্রয়োজনীয় উপকরণও সেখানে ছিল না। স্থানীয়ভাবে জোগাড় করা বিনা মূল্যের বা পরিত্যক্ত উপকরণও চোখে পড়েনি শ্রেণিকক্ষে।

উপযুক্ত উপকরণ ব্যবহার করলে পাঠ কেবল মুখস্থে আটকে থাকে না; শিক্ষার্থীরা দেখে ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সহজে বুঝে ফেলে, শেখাটাও হয় দীর্ঘস্থায়ী। এতে তাদের মনোযোগ ও আগ্রহ বাড়ে, প্রশ্ন করার আর ক্লাসে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু উপকরণ থাকা আর সেটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা—দুটো এক কথা নয়।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বিষয়ভিত্তিক নির্দেশনাতেও উপযুক্ত শিখন উপকরণ ব্যবহারের কথা বলা আছে। কিন্তু মাউশির পরিদর্শনের তথ্য বলছে, বাস্তবের শ্রেণিকক্ষের সঙ্গে সেই নির্দেশনার ফারাক বিস্তর।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, শিখন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের নিজেদের তৈরি নানা উপকরণ প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে বা বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত কিংবা দৃশ্যমান আছে। বাকি প্রায় অর্ধেকে সেসবের দেখা নেই।

শিক্ষকসংকট ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে শিক্ষকের দক্ষতা ও প্রস্তুতির প্রশ্ন। একদিকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ঘাটতি, অন্যদিকে প্রশিক্ষণের পর শিক্ষকেরা সেই জ্ঞান ও কৌশল শ্রেণিকক্ষে খাটাচ্ছেন কি না—তার নিয়মিত অনুসরণও সব ক্ষেত্রে হয় না। ফলে অনেক শিক্ষকই পড়ান প্রচলিত পদ্ধতিতে কিংবা দায়সারাভাবে।

প্রশিক্ষণের ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষকসংকটও। কোনো বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে একজনকেই একাধিক শ্রেণিতে ক্লাস নিতে হয়, সামলাতে হয় অতিরিক্ত দায়িত্বও। এতে পাঠ প্রস্তুতি, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অগ্রগতি দেখা কিংবা পাঠের উপযোগী উপকরণ বেছে নেওয়া ও ব্যবহারের সময় কমে যায়।

মাধ্যমিক পর্যায়ে, বিশেষ করে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট প্রকট। মাউশির তথ্য বলছে, দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭০২টি। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ১৫ হাজার ২৯৩টি, যার মধ্যে তিন হাজারের বেশি খালি। প্রধান শিক্ষকেরও ৩৮৩টি পদ শূন্য।

এর সঙ্গে জুড়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষকের সংকট। বিষয়টি বাধ্যতামূলক হওয়ার ১৩ বছর পরও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আলাদা শিক্ষক পদই সৃষ্টি হয়নি। গণিত, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞানের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবেই পড়াতে হচ্ছে আইসিটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকার একটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, তিনি আইসিটির শিক্ষক না হয়েও এই বিষয়ের ক্লাস নিতে বাধ্য হন। সম্প্রতি একদিন আইসিটির ক্লাস নেওয়ার সময় ইংরেজির এক শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় একই সময়ে তাঁকে ইংরেজির ক্লাসও সামলাতে হয়েছে।

ওই শিক্ষকের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ থাকে ঘাড়ের ওপর। ক্লাস সামলানোই যখন কঠিন, তখন পাঠের উপযোগী উপকরণ বেছে নেওয়া আর ব্যবহারের দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া আর হয়ে ওঠে না।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষকসংকট, প্রশিক্ষণের ঘাটতি আর প্রশিক্ষণের পর নিয়মিত তদারকির অভাব—এগুলোকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ শ্রেণিকক্ষে শেখানোর মান না বাড়লে কেবল অবকাঠামো বা উপকরণ সরবরাহ করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।

মূল্যায়নের রেকর্ড নেই অর্ধেকেরও বেশি স্কুলে

ধারাবাহিক মূল্যায়নের উদ্দেশ্য কেবল নম্বর দেওয়া নয়; শিক্ষার্থী কোন বিষয়টি বুঝেছে, কোথায় দুর্বল আর কোন জায়গায় তার বাড়তি সহায়তা দরকার—সেটি চিহ্নিত করা।

মাউশির তথ্য বলছে, দুই হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানে পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ীই শিখন কার্যক্রম চলে। তবে প্রায় ২৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে তা হয় না। আর ৫২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক মূল্যায়নের রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণই করা হয় না।

এর মানে, কোনো শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে পিছিয়ে পড়লে সেটি শনাক্ত করে সময়মতো সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়াটাই অনেক বিদ্যালয়ে দুর্বল। ফলে এক শ্রেণিতে যে ঘাটতি নিয়ে একজন শিক্ষার্থী পরের শ্রেণিতে ওঠে, তা ক্রমেই বাড়তে থাকে—একসময় সেটি পূরণ করাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এই ঘাটতির প্রভাব কেবল বিদ্যালয়ের ফলাফলে পড়ে না। উচ্চশিক্ষায় গিয়ে বিষয় বুঝতে সমস্যা হতে পারে, কর্মক্ষেত্রে দরকারি দক্ষতা অর্জনেও এর ছায়া পড়তে পারে।

অথচ শ্রেণিকক্ষে ভালোভাবে শেখানো নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীর শেখার বড় অংশটাই বিদ্যালয়েই সেরে ফেলা সম্ভব। তাতে বাড়তি কোচিং বা প্রাইভেটের ওপর নির্ভরতাও কমে আসবে বলে মনে করেন তাঁরা।

যৌন হয়রানির ৭১ অভিযোগ

এ সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ৭১টি যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর একটি উচ্চবিদ্যালয়েই ১২টি।

মাউশির এই তিন মাসের পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য এসেছে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানির অভিযোগ মিলেছে ৭১টি।

এর মধ্যে শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর একটি উচ্চবিদ্যালয়েই অভিযোগ ১২টি। ময়মনসিংহের গৌরীপুরের একটি বিদ্যালয়ে ছয়টি, নারায়ণগঞ্জ সদরের একটিতে পাঁচটি, বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার একটিতে পাঁচটি এবং টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের একটি বিদ্যালয়ে চারটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাকি বিদ্যালয়গুলোতে অভিযোগ মিলেছে এক থেকে তিনটি করে।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে এবং এসব ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিতে হবে।

যা করণীয়

শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শ্রেণিকক্ষে কার্যকর শেখানো নিশ্চিত করতে কেবল নতুন শিক্ষাক্রম, বই কিংবা উপকরণই যথেষ্ট নয়; শিক্ষকের পর্যাপ্ততা, প্রয়োজনভিত্তিক প্রশিক্ষণ আর সেই প্রশিক্ষণের বাস্তব প্রয়োগও নিয়মিত তদারক করতে হবে। তাতে শিখনের ঘাটতি আর কোচিং-প্রাইভেটের ওপর নির্ভরতা—দুটোই কমানো সম্ভব।

শিখনফল অর্জনের ক্ষেত্রে শিখন উপকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাক্রমের চাওয়া, শিখন উপকরণের নকশা ও পরিবীক্ষণ—এই তিনটির মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে।
— এস এম হাফিজুর রহমান, অধ্যাপক, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শিখনফল অর্জনে শিখন উপকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিষয়টি বিবেচনার সময় দেখতে হবে, শিক্ষাক্রম অনুযায়ী কী ধরনের শিখন কার্যক্রম প্রত্যাশিত এবং সেই অনুযায়ী উপকরণ তৈরি ও ব্যবহার হচ্ছে কি না। তাঁর মতে, শিক্ষাক্রমের চাওয়া, শিখন উপকরণের নকশা ও পরিবীক্ষণ—এই তিনটির মধ্যে সমন্বয় থাকা চাই।

তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত শিখন উপকরণ না থাকলে কিংবা সেগুলো ঠিকমতো ব্যবহার না হলে শিক্ষার্থীদের শিখনফলে বড় প্রভাব পড়ে। তাই মাউশির পরিদর্শন প্রতিবেদনের তথ্যগুলো গুরুত্ব দিয়ে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন এই শিক্ষাবিদ।

মাউশির মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, মনিটরিং জোরদারের পাশাপাশি যৌন হয়রানি ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কমিটির বিষয়ে জোর দেওয়া, সচেতনতা বাড়ানো এবং অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/education/ii8gzkv8xu

বিষয়:: শিক্ষা · মাউশি · মাধ্যমিক

https://news.rayenda.com/bn/education/4t3u3n

আগের