রায়েন্দা নিউজ

news.rayenda.com · ছাপার তারিখ: ৩০ আগস্ট ২০২৬

প্রযুক্তি

এআই নিয়ে বিল গেটসের সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৭ আগস্ট ২০২৬, ৮:৩০ সকাল

এআই নিয়ে বিল গেটসের সতর্কবার্তা
ছবি: প্রথম আলো

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভবিষ্যতে যে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে, তার জন্য মানুষ এখনো প্রস্তুত নয়। এই পরিবর্তন চাকরি, সরকার, ব্যবসা এমনকি মানুষে-মানুষে সম্পর্ককেও গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এআইয়ের দ্রুত বদলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বিশ্বকে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

‘দ্য টার্বুলেন্ট এআই এরা ইজ হেয়ার: দ্য চয়েসেস উই মেক নাউ আর ক্রিটিক্যাল’ শীর্ষক লেখায় গেটস জানান, এআইয়ের রূপান্তর সঙ্গে করে আনছে তিনটি বড় ঝুঁকি; এর প্রথমটি কর্মসংস্থান হারানো। তাঁর সতর্কবার্তা, এআই কোনো একটি নির্দিষ্ট খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না — আইন, গ্রাহকসেবা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সফটওয়্যার ও উৎপাদনের মতো নানা ক্ষেত্রকে গ্রাস করবে। কয়েক প্রজন্ম নয়, মাত্র এক দশকের মধ্যেই এই শিল্পগুলোতে আঘাত হানবে এটি। এআই যুগের এই রূপান্তর হবে মানব ইতিহাসের অন্যতম অশান্ত সময়, যার জন্য সমাজ প্রস্তুত নয়।

গেটসের মতে, এআইনির্ভর বিশ্বে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকবে প্রাথমিক ও মধ্যম পর্যায়ের চাকরি; অন্যদিকে নতুন তৈরি হওয়া অনেক কাজের জন্য লাগবে ভিন্ন ধরনের দক্ষতা। বিক্রয় ও গ্রাহক সহায়তা, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, আইনসংক্রান্ত কাজ, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও উৎপাদনসহ বিস্তৃত পরিসরের শিল্পে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু নতুন চাকরি তৈরি হবে ঠিকই, তবে সঠিক নীতিমালা না থাকলে সংখ্যায় তা এখনকার তুলনায় অনেক কম হবে।

তাঁর ধারণা, প্রভাবটি কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক কাজেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই দশকের শেষ নাগাদই স্মার্ট রোবট নির্মাণ ও আতিথেয়তার মতো কিছু শারীরিক কাজে মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করবে। পরিবর্তনের এই গতিই ভবিষ্যৎকে বিশেষভাবে আশঙ্কাজনক করে তুলেছে। এআই আরও সক্ষম হয়ে উঠলে তরুণ কর্মীদের জন্য প্রথম সুযোগটি পাওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে; অর্থাৎ অভিজ্ঞদের কাছ থেকে শেখা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তাঁদের জন্য সীমিত হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় যে আশঙ্কার কথা তিনি তুলে ধরেছেন, তা হলো — এআই কীভাবে বর্তমানের ডিজিটাল হুমকিগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। জালিয়াতি, ডিপফেক, ভুল তথ্য ও সাইবার আক্রমণের মতো ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এসব আরও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠতে পারে। শক্তিশালী এআই সিস্টেম সরকারগুলোও বিপজ্জনক উপায়ে ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর। গেটসের সতর্কবার্তা, খারাপ উদ্দেশ্যে কাজ করা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে চলে আসবে শক্তিশালী নতুন সব হাতিয়ার।

তবে এআইয়ের গতি ধীর করে দেওয়ার পক্ষে নন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, চিকিৎসক ও শিক্ষকদের সহায়তা থেকে শুরু করে সরকারি সেবার মান উন্নত করা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তি বড় সুফল বয়ে আনতে পারে। তবে ভবিষ্যতের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিগুলো সামলাতে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা চাই বলে জোর দিয়েছেন তিনি।

কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর ব্যবস্থা, জ্বালানি ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সরকারকে একসঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানিয়েছেন গেটস। তাঁর প্রস্তাবিত ‘হিউম্যান রিজার্ভড’ ধারণার আওতায় কিছু ক্ষেত্র বা ভূমিকা মানুষের জন্যই সংরক্ষিত রাখার কথা বলেছেন তিনি — বিশেষ করে যেসব কাজে সহানুভূতি ও মানবিক যোগাযোগ দরকার। পাশাপাশি অটোমেশনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পুনর্বাসন ও সহায়তা তহবিলের জোগান দিতে এআই টোকেন এবং রোবটের ওপর কর আরোপেরও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/technology/artificial-intelligence/lh9z8ie9rx

বিষয়:: এআই · বিল গেটস · প্রযুক্তি

https://news.rayenda.com/bn/technology/6gdv64

আগের