লাইফস্টাইল
অনলাইনে একটি ছবি, তারপর এক দিনেই ১৫টি অর্ডার
নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৬ সকাল
একসময় চাকরির পাশাপাশি নিজের উদ্যোগ আর্টেমিস শুরু করেছিলেন ফায়জা আহমেদ রাফা। কয়েক বছর পর চাকরি ছেড়ে পুরো সময় দিতে শুরু করেন নিজের প্রতিষ্ঠানেই। একবার অনলাইনে নতুন নকশার একটি শাড়ির ছবি দেওয়ার পরই মেলে ১৫টি অর্ডার — সেখান থেকেই বেড়ে যায় আত্মবিশ্বাস। এখানে রইল ফ্যাশন উদ্যোগ আর্টেমিসের গল্প।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে পড়ার সময় থেকেই নকশা ও হস্তশিল্পের নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফায়জা। একটি আর্ট স্কুলেও পড়াতেন তিনি। বিভিন্ন আয়োজনে নিজের তৈরি শাড়ি ও গয়না নিয়ে স্টল দিতেন।
এর মধ্যেই ২০১৬ সালে একটি গেম তৈরির প্রতিষ্ঠানে চরিত্র-নকশাকার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। কাজটির সঙ্গে সৃজনশীলতার যোগ থাকায় চাকরিটা ভালো লাগত। তবু নিজের মতো করে কিছু গড়ার ইচ্ছা মনের ভেতরে থেকেই যায়।
২০১৯ সালের নভেম্বরে সেই ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে ইসলামপুর ও মিরপুর থেকে কাপড় কিনে শুরু হয় আর্টেমিস। শুরুর পুঁজি ছিল চাকরির বেতন থেকে জমানো ১৫ হাজার টাকা। একই সময়ে খোলা হয় প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ। প্রথম দিকে ব্লাউজ ও কুর্তা নিয়েই কাজ করতেন তিনি।
ছোট উদ্যোক্তা হওয়ায় শুরুতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ব্লকের কাজ করাতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ছুটতে হতো। অল্প পরিমাণে কাজ করানোর কারণে অপেক্ষাও করতে হতো অনেক সময়।
কখনো কখনো একটি শাড়ি হাতে পেতে সাত দিন পর্যন্ত লেগে যেত। এই ভোগান্তি এড়াতে ২০২১ সালে বাসার গ্যারেজেই ছোট একটি ব্লকপ্রিন্ট ইউনিট গড়ে তোলেন তিনি। সেখানে সপ্তাহে দুই দিন এসে কাজ করতেন একজন কারিগর।
অফিসের কাজ সেরে নিজের প্রতিষ্ঠানে সময় দিতেন ফায়জা। তিনি বলেন, ‘আর্টেমিসের শুরুর দিকে কাতানের নকশা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি শাড়ি তৈরি করেছিলাম। সেই শাড়ির ছবি অনলাইনে প্রকাশ করার পর এক দিনেই ১৫টি অর্ডার পাই। তখন আমার কাছে শাড়িটির শুধু একটি নমুনা ছিল।
এসব অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে। একসময় কাপড়ের ভিড়ে আমার বাসাটাই গোডাউন হয়ে গিয়েছিল।’
২০২২ সালে চাকরি ছেড়ে পুরো সময় দিতে শুরু করেন তিনি। এখন সুতি, মসলিন, সিল্ক ও অরগাঞ্জার পোশাক নিয়ে কাজ করছে আর্টেমিস। পোশাকে থাকে ব্লক, ডিজিটাল প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারির কাজ। কাপড় সংগ্রহ করা হয় টাঙ্গাইল, ইসলামপুর ও সিরাজগঞ্জ থেকে।
দীর্ঘদিন অনলাইনে ব্যবসা চালানোর পর তিনি বুঝতে পারেন, ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য স্থায়ী একটি জায়গা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই ২০২৫ সালে কাজীপাড়ায় চালু হয় আর্টেমিস স্টুডিও। স্টুডিওর ভেতরেই রয়েছে ব্লকের ছোট একটি কারখানা।
সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/raphdj6g8c
বিষয়:: ফ্যাশন · নারী · উদ্যোক্তা
https://news.rayenda.com/bn/lifestyle/i5iant