ধর্ম
জশনে জুলুসে মুখর চট্টগ্রাম, অংশ নিলেন লাখো মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৬ আগস্ট ২০২৬, ৬:২০ সকাল
সকাল ৯টা। ষোলশহরের সড়কে তখন মানুষের স্রোত। ভোর থেকেই আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ — কারও কণ্ঠে হামদ-নাত, কারও কণ্ঠে তাকবির, দরুদ শরিফ ও জিকির। কেউ হেঁটে, কেউ ট্রাক-পিকআপে চেপে পৌঁছেছেন জুলুসে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভিড়; একসময় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে ষোলশহর ও আশপাশের এলাকা।
এই আবহেই বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে শুরু হয় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ৫৫তম জশনে জুলুস। নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লাখো মানুষ এতে অংশ নেন।
১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম নগরে এই জুলুস হয়ে আসছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) চট্টগ্রামে এটির প্রবর্তন করেন। এবার ছিল ৫৫তম আয়োজন।
এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অতিথি হিসেবে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ।
ভোর থেকেই নগর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হতে থাকেন ষোলশহর ও জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে। কেউ এসেছেন হেঁটে, কেউ ট্রাক-পিকআপে। জুলুস এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ, নাত ও দরুদ শরিফের সুর।
উপলক্ষ ঘিরে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসেছে ভাসমান মেলা। সেখানে বিক্রি হচ্ছে আঁতর, টুপি, তসবিহ, মেসওয়াক, গামছা, তোয়ালে, পাজামা, পাঞ্জাবি, জুলুসের পতাকা ও খাবারের পাশাপাশি মোবাইলের চার্জার থেকে শুরু করে নানা গৃহস্থালি সামগ্রী। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিতরণ করা হচ্ছে পানি, শরবত ও খেজুর।
জুলুস ঘিরে নগরে সাজ সাজ রব। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়ক বিভাজক সাজানো হয়েছে বড় বড় তোরণ, আনজুমানের পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারে। সবুজ পতাকা আর নানা রঙের সাজসজ্জায় বদলে গেছে পুরো পথ।
শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় বসানো হয়েছে শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগার।
নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ষোলশহরের আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে আবার নির্ধারিত পথে ফিরে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন জুলুস ময়দানে জমায়েত হওয়ার কথা।
জুলুসকে ঘিরে নগরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও জুলুসের স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। জুলুস চলাকালে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে; লালখান বাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত উড়ালসড়কও বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গত বছর চট্টগ্রাম নগরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছিল, আহত হন আরও অন্তত ছয়জন। সেই ঘটনার পর এবার নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার দুপুর পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী সাংবাদিকদের জানান, জুলুসকে কেন্দ্র করে অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন এবং কুশপুত্তলিকা প্রদর্শনসহ নানা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জুলুসের সময় নগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এমন বড় সমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের বড় দায়িত্ব এবং শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে জানান তিনি।
সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/799kxppax3
বিষয়:: চট্টগ্রাম · জশনে জুলুস · ঈদে মিলাদুন্নবী
https://news.rayenda.com/bn/religion/j99f4t