অর্থনীতি
বেড়েছে চিনি-আটা-ময়দার দাম, ডিমের বাজার এখনো চড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৮ আগস্ট ২০২৬, ৫:৫৫ ভোর
বাজারে খোলা চিনির দাম কেজিতে আরও ৫ টাকা বেড়েছে; প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। অন্যদিকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মোড়কজাত চিনির সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে — কয়েক দোকান ঘুরে তবেই তা কিনতে পারছেন ক্রেতারা।
খুচরা বাজারে বেড়েছে খোলা আটা ও ময়দার দামও। ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন এখনো দেড় শ টাকা। তবে কিছুটা কমেছে পেঁয়াজ, রসুন, আমদানি করা আদা ও কয়েক ধরনের সবজির দাম।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড বাজার ও টাউন হল বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মূলত কোম্পানি (মিল গেট) ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরায়ও চিনির দাম বেড়েছে; মিল গেট থেকে সরবরাহও আগের চেয়ে কমেছে।
দেশে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে চলছে গ্যাস-সংকট, যার কারণে কারখানাগুলোতে কমেছে চিনির উৎপাদন। ফলে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ আসছে না। এই সংকটের মধ্যে গত দুই সপ্তাহে খুচরা বাজারে চিনির দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১৫ টাকা; শুধু গত এক সপ্তাহেই বেড়েছে ৫ টাকা।
বৃহস্পতিবার তিনটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব দোকানে খোলা চিনি ছিল না; আর বেশির ভাগ দোকানেই মেলেনি মোড়কজাত চিনি। যেমন মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ১০টি মুদিদোকানের সঙ্গে কথা বলে মাত্র তিনটিতে মোড়কজাত ও ছয়টিতে খোলা চিনি পাওয়া গেছে।
বেশির ভাগ খুচরা দোকানে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকায়, কোনো কোনো দোকানে খোলা চিনির কেজি ১২০ টাকাও দেখা গেছে। গত সপ্তাহে দাম ছিল ১১০ থেকে ১১৫ টাকা; তারও এক সপ্তাহ আগে ১০০-১০৫ টাকা। কৃষি মার্কেটের বিক্রেতা ইমাম পাটোয়ারি জানান, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) দাম বেড়েছে প্রায় ৬৫০ টাকা; এখন এক বস্তা চিনি কিনতে লাগছে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি।
কোনো কোনো দোকানে মোড়কজাত লাল চিনি মিললেও তার দাম বেশি — কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।
বৃহস্পতিবার সকালের ঘটনা। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের আল্লাহ রাখা জেনারেল স্টোরে মুদিপণ্য কিনতে এসে চিনিও চেয়েছিলেন এক ক্রেতা, অথচ দোকানে তখন চিনিই নেই। শেষমেশ বিক্রেতা সাকিব ইমাম হোসেন পাশের দোকান থেকে এক কেজি খোলা চিনি এনে ধরিয়ে দেন তাঁকে।
সাকিব ইমাম বলেন, ‘কাস্টমার প্যাকেট চিনি চেয়েছিল। দোকানে না থাকায় পাশের দোকান থেকে খোলা চিনি এনে দিয়েছি। প্যাকেট চিনির কেজি ১১০ টাকা; কাস্টমার সেই দামই দিয়েছে। কিন্তু অন্য দোকান থেকে ১১৫ টাকায় খোলা চিনি কিনে আনছি। জায়গায় ৫ টাকা লস। বান্ধা কাস্টমার; কিচ্ছু করার নাই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাউন হল বাজারের এক মুদি বিক্রেতার ভাষ্য, মোড়কজাত চিনির চেয়ে খোলা চিনির দামই এখন বেশি। ফলে অনেক দোকানি প্যাকেট ভেঙে সেটিকে খোলা চিনি বলেই বেচে দিচ্ছেন; আবার কারও কারও দোকানে প্যাকেট থাকলেও তাঁরা সে কথা স্বীকার করছেন না।
দাম বাড়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা। টাউন হল বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে তাজমহল রোডের বাসিন্দা বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘এক প্যাকেট চিনি কেনার জন্য পাঁচ দোকান ঘুরেছি। কোথাও প্যাকেট পাইনি। পরে এক দোকান থেকে খোলা চিনি কিনেছি। তা-ও গত মাসের চেয়ে ১৫ টাকা বেশি দামে। কারখানায় উৎপাদন কমলেই দাম এতটা বেড়ে যাবে, এটা কেমন কথা?’
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগের তুলনায় খোলা আটা ও ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে ৩ টাকা। এখন প্রতি কেজি খোলা আটা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ও ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। মোড়কজাত আটার দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে, যদিও তা এক মাসের ব্যবধানে। ফার্মের মুরগির ডিমের বাজার এখনো চড়া — এক ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।
স্বস্তির খবরও আছে কিছু পণ্যে — পেঁয়াজ, রসুন, আমদানি করা আদা আর কয়েক পদের সবজিতে দাম কমেছে। কেজিতে ৫ টাকা কমে পেঁয়াজ এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। রসুন-আদায় কমেছে প্রায় ৩০ টাকা করে; দেশি রসুন মিলছে ৭০ থেকে ১২০ টাকায়, আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ২০০ এবং আমদানি করা আদা ১২০ থেকে ১৭০ টাকায়।
সবজির বাজারেও বেশির ভাগ পণ্যের দাম নেমেছে ১০০ টাকার নিচে। করলা, কাঁকরোল, বেগুন ও কচুর লতি মিলছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়; পটোল, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, ঝিঙে ও চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম অবশ্য কিছুটা বেশি — ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/business/economics/lyludfhgss
বিষয়:: বাজার · নিত্যপণ্য · দাম
https://news.rayenda.com/bn/economy/tu9982