প্রযুক্তি
অনলাইনে ব্যবহারকারীদের হয়ে কাজ করে দেবে চ্যাটজিপিটি
নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৫ দুপুর
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নিজে থেকেই ঢুকে ব্যবহারকারীর হয়ে বিমানের টিকিট কেনা বা বাতিল, চিকিৎসক দেখানোর সময় নির্ধারণ, এমনকি অনলাইনে কেনা পণ্য গ্রহণের সময় বদলানোর কাজও করে দেবে চ্যাটজিপিটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন এই সুবিধায় এমন অনেক কাজ করা যাবে যেগুলোর জন্য এত দিন ব্যবহারকারীদের নিজেদেরই বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যেতে হতো। মোবাইল ও ওয়েব সংস্করণে প্লাস, প্রো ও বিজনেস ব্যবহারকারীদের জন্য এটি চালু করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, সুবিধাটি ‘চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক’ নামের একটি এআই এজেন্টের অংশ। জিপিটি-৫.৬ চালিত এই এজেন্ট ব্যবহারকারীর অনুমতি নিয়ে অনলাইনে নানা কাজ করতে পারে। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক নয়, দৈনন্দিন জীবনের কাজেও এটি ব্যবহার করা যাবে। ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লগইন করতে হলেও সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের কাছে দৃশ্যমান হবে না, ফলে পাসওয়ার্ডের তথ্য নিরাপদ থাকবে।
ওপেনএআইয়ের হেল্প পেজ অনুযায়ী, লগইনের তথ্য গোপন রাখতে ব্যবহার করা হবে ক্লাউড ব্রাউজার। এই ব্রাউজার ওয়েবপেজ পড়তে, বিভিন্ন বোতামে ক্লিক করতে, ফরমে তথ্য লিখতে এবং সমর্থিত ওয়েবসাইটে লগইনের পর প্রয়োজনীয় কাজ সারতে পারে। শুরুতে চ্যাটজিপিটিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে। লগইনের দরকার পড়লে কথোপকথন সাময়িকভাবে থামিয়ে একটি ‘সুরক্ষিত ফরম’ দেখাবে এটি; ব্যবহারকারী সেখানে নিজের তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবে চ্যাটজিপিটি। কোনো অ্যাকাউন্টে টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু থাকলে সেটিও ব্যবহারকারীকেই সম্পন্ন করতে হবে।
চ্যাটজিপিটি কোন ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারবে, তা আগে থেকেই ঠিক করে দিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। সেটিংসের ‘ক্লাউড ব্রাউজার’ অংশে প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য রয়েছে তিন ধরনের অনুমতি — ‘অলওয়েজ আস্ক’, ‘অটো অ্যাপ্রুভ’ ও ‘অলওয়েজ অ্যালাও’। প্রথমটি বেছে নিলে প্রতিবার প্রবেশের আগে অনুমতি চাইবে চ্যাটজিপিটি। ‘অটো অ্যাপ্রুভ’ চালু থাকলে নির্দিষ্ট ধরনের কাজ নিজেই করে ফেলবে। আর ‘অলওয়েজ অ্যালাও’ নির্বাচন করলে ওই ওয়েবসাইটে নিয়মিত প্রবেশ করবে। তবে কিছু ওয়েবসাইট এআই এজেন্টের প্রবেশ সীমিত বা নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে, তাই সব জায়গায় সুবিধাটি কাজ করবে না।
ব্যবহারকারীর হয়ে নানা কাজ করতে পারলেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নিজে থেকে চূড়ান্ত করবে না চ্যাটজিপিটি। কোনো কাজ পরে বাতিল করা কঠিন হলে, কিংবা তাতে আর্থিক, আইনি, অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত বা বাস্তব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়বদ্ধতা তৈরি হলে সেটি সম্পন্ন করার আগে ব্যবহারকারীর চূড়ান্ত অনুমতি নেবে এটি। যেমন বিমানের টিকিট কেনা বা কোনো বুকিং নিশ্চিত করার আগে অনুমোদন চাইবে; ব্যবহারকারী সম্মতি না দিলে কাজটি করবে না।
সূত্র: ম্যাশেবল
সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/technology/artificial-intelligence/et4g72qzq2
বিষয়:: এআই · ওপেনএআই · চ্যাটজিপিটি
https://news.rayenda.com/bn/technology/v4h6ry