সারাদেশ
চরে বিষমাখা ঘাস খেয়ে অসুস্থ ২৮ মহিষ, মারা গেছে তিনটি
নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৮ আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৬ সকাল
পটুয়াখালীর বাউফলে বিষপ্রয়োগ করা খাবার খেয়ে অন্তত ২৮টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে, মারা গেছে তিনটি। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার লালচরে ঘটনাটি ঘটে।
মহিষের রাখাল ও পশুচিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, চরের ঘাসে বিষ ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল। সেই ঘাস খেয়েই বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় মহিষগুলো। আরও কয়েকটির অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। বাকিগুলোর চিকিৎসা চলছে। বিষমাখা খাবার খেয়েই মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে, প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা লালচরে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় খামারিরা উন্মুক্তভাবে মহিষ চরিয়ে আসছেন। চরের সবুজ ঘাস খেয়ে প্রাকৃতিকভাবেই গরু-মহিষ হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ওঠে।
মহিষমালিকদের বরাতে জানা যায়, অন্য দিনের মতো শুক্রবারও রাখালেরা শতাধিক মহিষ নিয়ে লালচরে যান ঘাস খাওয়াতে। কিন্তু চরের ঘাসে আগে থেকেই বিষ ছিটিয়ে রেখেছিল দুর্বৃত্তরা। সেই ঘাস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে ২৫ থেকে ৩০টি মহিষ। মারা যাওয়া তিনটির মধ্যে একটি রফিজ মৃধার, একটি সুমন মাঝির ও একটি রুহুল আমিনের।
চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেব এলাকার বাসিন্দা মো. মোস্তফা ফকির প্রায় ১৫ বছর ধরে লালচরে মহিষ পালন করেন। তিনি বলেন, ‘শত শত মহিষ লালচরের ঘাস খায়। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এ বছর শত্রুতা করে দুর্বৃত্তরা চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করে রেখেছে। সেই ঘাস খেয়ে মহিষ মারা যাচ্ছে। আমার ১৮টি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/rqpxfsge0x
বিষয়:: পটুয়াখালী · মহিষ · বিষপ্রয়োগ
https://news.rayenda.com/bn/countrywide/vcm2ij