রায়েন্দা নিউজ

news.rayenda.com · ছাপার তারিখ: ৩১ আগস্ট ২০২৬

জাতীয়

বন্দুক হাতে দুই তরুণের ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৮ আগস্ট ২০২৬, ৯:১১ সকাল

বন্দুক হাতে দুই তরুণের ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল
ছবি: প্রথম আলো

কালো রঙের লম্বা কুর্তা-পায়জামা, মাথায় টুপি — এমন পোশাকে দুই তরুণ। হাতে কালো রঙের বড় দুটি বন্দুক। কখনো পার্কের ভেতর, কখনো ব্যস্ত সড়কে, আবার কখনো দোকানের সামনে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। সামনে যাঁকেই পাচ্ছেন, তাঁর দিকেই হঠাৎ তাক করছেন অস্ত্রটি। রিকশাচালক থেকে পথচারী, বাদ যাচ্ছে না শিশুও। কেউ থমকে যাচ্ছেন, কেউ আতঙ্কে সরে যাচ্ছেন, কেউ আবার তাকিয়ে থাকছেন বিস্মিত চোখে।

৩৫ সেকেন্ডের এই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে এটিকে দেশে অস্ত্রের অবাধ বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে পোস্ট দেন; কেউ কেউ সরকারের সমালোচনাও করেন। তবে ভিডিওটি বাস্তব কোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয় — মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে পরিকল্পিতভাবেই এটি বানানো বলে দাবি করেছেন দুই তরুণের একজন।

ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কের (সাবেক শেখ রাসেল নহর পার্ক) বিভিন্ন এলাকায়। এর নির্মাতা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা। তাঁর সঙ্গে বন্দুক হাতে থাকা আরেক তরুণের নাম ইয়াসিন, যিনি মূলত ক্যামেরাম্যান হিসেবে সহযোগিতা করেন।

ভিডিওটি প্রথমে প্রকাশ করা হয় টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে, যেখানে লিমন ও তাঁর বোন নানা ধরনের ভিডিও প্রকাশ করেন। পরে একই ভিডিও যায় ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের ইনস্টাগ্রাম ও ‘ওয়াফি লিমন’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে। তিনটি অ্যাকাউন্টই তাঁর বলে জানিয়েছেন লিমন।

‘মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখতেই ভিডিওটি’

লিমন তোহা জানান, টিকটকে এ ধরনের ভিডিওর ট্রেন্ড দেখেই এটি তৈরি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্দুক দেখে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করা। তিনি বলেন, ‘এটি মূলত ফানি ভিডিও হিসেবে বানানো। কিন্তু ফেসবুকে দেওয়ার পর অনেকে এটিকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করেছেন। আমরা মানুষের ভয় পাওয়ার অংশটুকু প্রকাশ করেছি। পরে তাঁরা যে মজা করেছেন, সেই অংশটি প্রকাশ করিনি।’

তাঁর ভাষ্যমতে, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও নাটক দেখেন তিনি; সেসবের কিছু দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের মতো করে ভিডিও বানান। পাকিস্তানি ভিডিও ও নাটকের আদলে তৈরি কনটেন্টে সাড়া বেশি পান বলেই সেই ধরনের ভিডিও বানানোর প্রবণতা বেড়েছে। নিজের কনটেন্ট নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও দেশের প্রতি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট বলে দাবি করেন তিনি।

এভাবে বন্দুক হাতে মানুষকে ভয় দেখানো যায় কি না — এমন প্রশ্নে লিমন বলেন, ‘এটা অপরাধ কি না, আমি জানি না। অন্য দেশে এমন ভিডিও অনেকেই করে। টিকটকে বিভিন্ন দেশের ট্রেন্ড দেখে ভিডিওটি আমি তৈরি করেছি। এটা শুধুই মজা করে তৈরি করা।’

‘পুলিশও দেখেছে’

ভিডিওতে ব্যবহৃত বন্দুকটি খেলনা বলে দাবি করে তিনি জানান, ধারণের সময় পুলিশও বিষয়টি দেখেছে। লিমন বলেন, ‘বন্দুক দেখে শুরুতে কেউ কেউ ভয় পেয়েছেন। পরে খেলনা বন্দুক বুঝতে পেরে তাঁরা মজাও করেছেন। পুলিশও বিষয়টি দেখেছে। তারা প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরে বুঝতে পেরেছে এটি খেলনা বন্দুক। তাই কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা পুলিশের রি–অ্যাকশনও ধারণ করেছিলাম, তবে সেটি ঠিকমতো না আসায় ফেসবুকে ছাড়া হয়নি।’

ওই দুই তরুণের বাড়ি বন্দর থানার এলাকায় পড়লেও ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার মধ্যে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ভিডিও সম্পর্কে আমরা অবগত নই। আমাকে কেউ জানায়নি অথবা কেউ অভিযোগও দেয়নি। সিটি পার্ক এলাকায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা ডিউটি করেন। তাঁরা কিংবা পার্ক কর্তৃপক্ষও কিছু জানায়নি। আমরা খোঁজ নেব। যদি সংশ্লিষ্টটা থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আইন কী বলে

বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেই মনে করছেন আইনবিশেষজ্ঞরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, এটি পুরোপুরি আইনি বিষয়। কোনো ধরনের টুল ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি দেখানো হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ — সেটি খেলনা অস্ত্র দিয়ে হোক কিংবা ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যেই হোক। তাঁর ব্যাখ্যায় এখানে দুটি বিষয় রয়েছে: প্রথমত, অস্ত্র দেখিয়ে জনগণকে ভয় দেখানো ও প্যানিক তৈরি করা, যা পুরোপুরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ; দ্বিতীয়ত, মানুষের সেই আতঙ্কের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁদের মানহানি করা, যা পড়ে সাইবার সিকিউরিটি আইনের আওতায়।

সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/6ae8ydl2uy

বিষয়:: সোশ্যাল মিডিয়া · নারায়ণগঞ্জ · ভাইরাল

https://news.rayenda.com/bn/national/wxd6az

আগের