কখনো মাথাব্যথা হয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে সব মাথাব্যথা এক রকম নয়। নানা কারণে এটি হতে পারে, আর ধরন অনুযায়ী উপসর্গ, চিকিৎসা ও সতর্কতাও আলাদা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে মাথাব্যথাকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয় — প্রাথমিক ও মাধ্যমিক। অন্য কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যার কারণে না হলে সেটি প্রাথমিক; আর কোনো রোগ, আঘাত বা ভিন্ন কারণে হলে তা মাধ্যমিক মাথাব্যথা। এখানে রইল আটটি ধরনের বর্ণনা।
টেনশন হেডেক। প্রাথমিক মাথাব্যথার মধ্যে এটিই সবচেয়ে সাধারণ। মাথার দুই পাশে চাপ বা টান ধরার মতো ব্যথা হয়, মনে হয় যেন মাথার চারপাশে শক্ত একটি ব্যান্ড বাঁধা। মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও শরীরে পানির ঘাটতি থেকে এটি হতে পারে।
মাইগ্রেন। এটি কেবল মাথাব্যথা নয়, একটি স্নায়বিক সমস্যা। সাধারণত মাথার এক পাশে তীব্র দপদপে ব্যথার সঙ্গে থাকে বমি বমি ভাব। আলো, শব্দ বা গন্ধে অস্বস্তি হতে পারে। কারও কারও ব্যথা শুরুর আগে চোখে ঝিকিমিকি আলো বা বাঁকা রেখা দেখা, ঝিনঝিন করা কিংবা কথা জড়িয়ে আসার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
ঘাড় থেকে হওয়া ব্যথা। ঘাড়ের পেশিতে দীর্ঘদিনের টান, স্নায়ুতে চাপ, আর্থ্রাইটিস বা ঘাড়ে আঘাত থেকে এমন মাথাব্যথা হতে পারে। ঘাড়ের সমস্যা থেকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে মাথার সামনের দিকে। এ ক্ষেত্রে মূল কারণ অর্থাৎ ঘাড়ের সমস্যার চিকিৎসাই গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যাফেইন ছাড়ার ব্যথা। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের অভ্যাস থাকলে হঠাৎ পরিমাণ কমিয়ে দিলে বা বন্ধ করলে মাথাব্যথা হতে পারে। সাধারণত ক্যাফেইন বন্ধের ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি শুরু হয়। সঙ্গে থাকতে পারে ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগে সমস্যা ও বমি বমি ভাব।
পরিশ্রমজনিত ব্যথা। দৌড়ানো, লাফানো, ভারী কিছু তোলা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, এমনকি জোরে কাশি বা হাঁচির পরও এমন ব্যথা হতে পারে। সাধারণত তা হঠাৎ শুরু হয়ে অল্প সময় থাকে। তবে প্রথমবার এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ কখনো কখনো এর পেছনে গুরুতর কারণ থাকতে পারে।
সাইনাসের ব্যথা। সাইনুসাইটিসের প্রদাহ বা সংক্রমণে চোখ, কপাল ও গালের আশপাশে চাপ বা ব্যথা অনুভূত হয়। সঙ্গে থাকতে পারে নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া, জ্বর ও মুখে চাপ লাগার অনুভূতি। সাইনাসের মূল সমস্যার চিকিৎসা করলে সাধারণত মাথাব্যথাও কমে আসে।
ওষুধ থেকে হওয়া ব্যথা। বারবার মাথাব্যথার ওষুধ খেলে উল্টো ব্যথা আরও ঘন ঘন হতে পারে; একে বলা হয় রিবাউন্ড হেডেক। যাঁদের নিয়মিত মাথাব্যথা হয় এবং ঘন ঘন ব্যথানাশক খেতে হয়, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ক্লাস্টার হেডেক। তুলনামূলক বিরল, কিন্তু অত্যন্ত তীব্র। সাধারণত এক চোখের আশপাশে জ্বালাপোড়া বা ছুরির আঘাতের মতো ব্যথা হয়। থাকতে পারে চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ। এক দিনে একাধিকবার এমন ব্যথা হতে পারে, আর কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে নির্দিষ্ট বিরতিতে ফিরে ফিরে আসতে পারে।
সূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে