সৌদি আরবে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে।
শনাক্ত হওয়া নয়জনের মধ্যে সাতজনেরই বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ তাঁদের একজন। গণ্ডগোহালী গ্রাম থেকে রয়েছেন চারজন — রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম এবং দুই ভাই মোহন আলী ও সুমন আলী। বাকি দুজনের মধ্যে সোহেল রানার বাড়ি ডুবাই গ্রামে, আবদুল জলিল সরকারের পারকাসুন্দায়। আত্রাইয়ের বাইরে শনাক্ত হয়েছেন আরও দুজন — নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের শ্যামল উদ্দিন।
মরদেহগুলো বুঝে নিতে বিমানবন্দরে ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। নওগাঁ জেলা প্রশাসনের হয়ে সেখানে ছিলেন আত্রাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।
মরদেহ গ্রহণের পর নিজের ফেসবুকে ইউএনও মনিরুজ্জামান লেখেন, ‘সৌদি আরবের সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত আত্রাই উপজেলার সাতজন প্রবাসীর লাশ ইতোমধ্যে ঢাকা এসে পৌছেছে। আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে নিহতদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে নিজ নিজ গ্রামে মরদেহগুলো দাফন করা হবে।’
রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে তিনি জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিমানবন্দরে মরদেহগুলো গ্রহণ করা হয়। সে সময় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধির পাশাপাশি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের একজন করে স্বজনও উপস্থিত ছিলেন। এরপর গাড়িতে করে মরদেহগুলো বাড়ির পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় নয়জনের পরিচয়।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নিহত নওগাঁর বাকি ছয় বাসিন্দার পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াও চলছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে; সেটি শেষ হলে মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।