রায়েন্দা নিউজ

news.rayenda.com · ছাপার তারিখ: ৩০ আগস্ট ২০২৬

খেলা

নেইমারের অর্থে মোনাকোর দেনা শোধ করল সান্তোস

নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৮ আগস্ট ২০২৬, ৭:৩০ সকাল

নেইমারের অর্থে মোনাকোর দেনা শোধ করল সান্তোস
ছবি: জাগো নিউজ

নেইমারের পরিবারের মালিকানাধীন স্পোর্টস মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান এনআর স্পোর্টসের আর্থিক সহায়তায় অবশেষে মোনাকোর দেনা পরিশোধ করেছে সান্তোস। ফলে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির ওপর ফিফার আরোপ করা খেলোয়াড় নিবন্ধনের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। এখন থেকে আবার নতুন খেলোয়াড় দলে নিতে পারবে নেইমারের শৈশবের ক্লাবটি।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সান্তোস। ক্লাবটি জানিয়েছে, ফরাসি ক্লাব এএস মোনাকোর কাছে বকেয়া ২০ লাখ ইউরো পরিশোধ করা হয়েছে, সঙ্গে দেওয়া হয়েছে সুদের অর্থও।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সান্তোস এফসি তাদের ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে এবং আবারও ট্রান্সফার মার্কেটে কার্যক্রম পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করেছে।’

ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জ্যঁ লুকাসকে মোনাকো থেকে স্থায়ীভাবে দলে নেওয়ার সময় চুক্তির শেষ কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি সান্তোস। বকেয়া সেই অর্থের পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ইউরো। টাকা না পাওয়ায় গত বছর ফিফার কাছে ক্লাবটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মোনাকো।

বিষয়টি তদন্ত করে ২০২৫ সালের মে মাসে ফিফা রায় দেয় — ৪৫ দিনের মধ্যে মোনাকোর পাওনা ২০ লাখ ইউরো ও অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৮৭৬ ইউরো সুদ পরিশোধ করতে হবে সান্তোসকে।

অর্থ পরিশোধ না করলে নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ফিফার সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ টানা তিনটি ট্রান্সফার উইন্ডো পর্যন্ত তা বহাল রাখার সুযোগও ছিল। ফলে দ্রুত দেনা শোধ করা ক্লাবটির জন্য হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত জরুরি।

পাশে দাঁড়াল নেইমারের পরিবারের প্রতিষ্ঠান
এই সংকটে সান্তোসকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে এনআর স্পোর্টস। নেইমারের পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর বাবা-মা। দীর্ঘদিন ধরেই এটি নেইমারের ক্যারিয়ার, ব্র্যান্ড ও ইমেজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।

সান্তোস জানিয়েছে, এনআর স্পোর্টসের সহায়তায় তাৎক্ষণিক অর্থ পেয়েছে তারা, আর সেই অর্থেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে মোনাকোর পাওনা। বিনিময়ে ক্লাবটির যেসব কিট স্পনসরশিপের অধিকার এখনো বিক্রি হয়নি, সেগুলো নিয়ে যৌথভাবে বাণিজ্যিক কাজ করবে সান্তোস ও এনআর স্পোর্টস।

অর্থাৎ দেনা পরিশোধে নেইমারের পরিবারের প্রতিষ্ঠান সরাসরি সহযোগিতা করলেও বিনিময়ে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক অধিকার থেকে আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে তাদের।

নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় সান্তোস এখন স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে। দল শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ তৈরি হলো ক্লাবটির সামনে।

ব্রাজিলিয়ান শীর্ষ লিগে চলতি মৌসুমে দলটির পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয় — ২৩ ম্যাচে জয় মাত্র ছয়টি, অবস্থান ১৪তম। এমন পরিস্থিতিতে নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নেইমারের সঙ্গে সান্তোসের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই ক্লাবের যুব একাডেমি থেকেই তাঁর উত্থান; ২০০৯ সালে মূল দলে অভিষেকের পর বিশ্ব ফুটবলে জায়গা করে নেন তিনি।

বার্সেলোনা ও পিএসজিতে সাফল্যের পর আল-হিলাল হয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাবে ফেরেন তিনি।

ফিরে এসেই ক্লাবটির কঠিন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই তারকা। গত মৌসুমে সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচাতে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। এখন মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্লাবের মাঠের বাইরের সংকটেও ভূমিকা রাখছে তাঁর পরিবার ও তাদের প্রতিষ্ঠান।

মোনাকোর দেনা মিটিয়ে আপাতত বড় একটি চাপ থেকে মুক্তি পেল সান্তোস। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় এখন তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে দল শক্তিশালী করা আর লিগে অবস্থানের উন্নতি ঘটানো।

জরুরি আর্থিক সংকট সামাল দেওয়া গেলেও ক্লাবটির সামনে চ্যালেঞ্জ এখনো বড় — আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, মাঠের ফল ঘুরিয়ে দেওয়া এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করা।

সূত্র: জাগো নিউজ — https://www.jagonews24.com/sports/football/1151678

বিষয়:: ফুটবল · নেইমার · সান্তোস

https://news.rayenda.com/bn/sports/smk6ja

আগের