নেইমারের পরিবারের মালিকানাধীন স্পোর্টস মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান এনআর স্পোর্টসের আর্থিক সহায়তায় অবশেষে মোনাকোর দেনা পরিশোধ করেছে সান্তোস। ফলে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির ওপর ফিফার আরোপ করা খেলোয়াড় নিবন্ধনের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। এখন থেকে আবার নতুন খেলোয়াড় দলে নিতে পারবে নেইমারের শৈশবের ক্লাবটি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সান্তোস। ক্লাবটি জানিয়েছে, ফরাসি ক্লাব এএস মোনাকোর কাছে বকেয়া ২০ লাখ ইউরো পরিশোধ করা হয়েছে, সঙ্গে দেওয়া হয়েছে সুদের অর্থও।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সান্তোস এফসি তাদের ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে এবং আবারও ট্রান্সফার মার্কেটে কার্যক্রম পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করেছে।’
ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জ্যঁ লুকাসকে মোনাকো থেকে স্থায়ীভাবে দলে নেওয়ার সময় চুক্তির শেষ কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি সান্তোস। বকেয়া সেই অর্থের পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ইউরো। টাকা না পাওয়ায় গত বছর ফিফার কাছে ক্লাবটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মোনাকো।
বিষয়টি তদন্ত করে ২০২৫ সালের মে মাসে ফিফা রায় দেয় — ৪৫ দিনের মধ্যে মোনাকোর পাওনা ২০ লাখ ইউরো ও অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৮৭৬ ইউরো সুদ পরিশোধ করতে হবে সান্তোসকে।
অর্থ পরিশোধ না করলে নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ফিফার সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ টানা তিনটি ট্রান্সফার উইন্ডো পর্যন্ত তা বহাল রাখার সুযোগও ছিল। ফলে দ্রুত দেনা শোধ করা ক্লাবটির জন্য হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত জরুরি।
পাশে দাঁড়াল নেইমারের পরিবারের প্রতিষ্ঠান
এই সংকটে সান্তোসকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে এনআর স্পোর্টস। নেইমারের পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর বাবা-মা। দীর্ঘদিন ধরেই এটি নেইমারের ক্যারিয়ার, ব্র্যান্ড ও ইমেজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।
সান্তোস জানিয়েছে, এনআর স্পোর্টসের সহায়তায় তাৎক্ষণিক অর্থ পেয়েছে তারা, আর সেই অর্থেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে মোনাকোর পাওনা। বিনিময়ে ক্লাবটির যেসব কিট স্পনসরশিপের অধিকার এখনো বিক্রি হয়নি, সেগুলো নিয়ে যৌথভাবে বাণিজ্যিক কাজ করবে সান্তোস ও এনআর স্পোর্টস।
অর্থাৎ দেনা পরিশোধে নেইমারের পরিবারের প্রতিষ্ঠান সরাসরি সহযোগিতা করলেও বিনিময়ে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক অধিকার থেকে আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে তাদের।
নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় সান্তোস এখন স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে। দল শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ তৈরি হলো ক্লাবটির সামনে।