দেশের ৬৪ জেলায় সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপ। কারও ভাগে পড়েছে একটি জেলা, কারও দুই থেকে তিনটি। দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং উন্নয়ন কার্যক্রম দেখভাল করবেন।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই বণ্টনের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে তা লুটপাট হয়েছে। লুট করা অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়েছে। বাকি অংশ দেশের ভেতরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর নানা কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
এ অবস্থায় জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতেই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
তালিকা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদ পেয়েছেন রাজশাহী ও নাটোর; আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়; আবদুল আউয়াল মিন্টু লক্ষ্মীপুর; নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা এবং খন্দকার আবদুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ।
মৌলভীবাজারের দায়িত্বে আরিফুল হক চৌধুরী। মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন চট্টগ্রাম; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা; আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট।
জাকারিয়া তাহেরের ভাগে ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ; সাচিং প্রুর কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমের টাঙ্গাইল ও নরসিংদী।
শামা ওবায়েদ ইসলাম পেয়েছেন মাদারীপুর ও শরীয়তপুর; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ; আব্দুল বারী বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিন ঢাকা জেলা।
পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব পেয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। হাবিবুর রশিদের ভাগে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ; মো. রাজীব আহসানের বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমের রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম।
ফারজানা শারমিন পেয়েছেন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইমরান খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জু বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি। এ ছাড়া মোহাম্মদ শামীম কায়সার জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মো. জি কে গউছ সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পুরোনো অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ নানা উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজ তদারকিও করবেন তাঁরা। প্রয়োজনে জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন।