রাজনীতি

সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু, বিতর্কের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:০০ সকাল
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু, বিতর্কের আভাস
ছবি: প্রথম আলো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার, বেলা তিনটা থেকে। এই অধিবেশনে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়াসহ কয়েকটি বিল আনার কথা রয়েছে।

এই দুই আইনের খসড়া নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা; ফলে অধিবেশনে বিল দুটি ঘিরে বিতর্ক হতে পারে। পাশাপাশি চলমান বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকটের মতো বিষয় নিয়েও উত্তাপ তৈরি হতে পারে সংসদে।

বছরের এই সময়ে ডাকা অধিবেশন সাধারণত খুব দীর্ঘ হয় না। কত দিন চলবে, তা ঠিক করবে অধিবেশন শুরুর আগে বসা সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের অধিবেশনে কয়েকটি বিল উত্থাপন ও পাস হতে পারে। এ পর্যন্ত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলসহ তিনটি বিল জমা পড়েছে সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায়; আরও কয়েকটি আসার কথা। সব মিলিয়ে অধিবেশন চলতে পারে ১০ থেকে ১১ কার্যদিবস।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা হয়েছিল ১৩৩টি অধ্যাদেশ। নিয়ম অনুযায়ী গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই সেগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হয়; অনুমোদন বা অননুমোদনের শেষ সময় ছিল ১০ এপ্রিল।

নির্ধারিত সময়ে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে না আসায় সেগুলো কার্যকারিতা হারায়। আর সাতটি বাতিল করা হয় রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে।

গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ যে ১৬টি নির্ধারিত সময়ে বিল আকারে আসেনি, সেগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে নতুন বিল আনার কথা বলেছিল সরকার। এর একটিই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ।

অন্যদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনঃপ্রচলনে বিল পাস হয়েছিল এই সংসদের প্রথম অধিবেশনেই। তখন সরকার বলেছিল, অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আইনটি আরও শক্তিশালী করা হবে।

এর মধ্যে গত ৩ আগস্ট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা; জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া অনুমোদিত হয় ১০ আগস্ট। খসড়া দুটি অনুমোদনের পর থেকেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন পক্ষ; সমালোচনা হচ্ছে খসড়ার কিছু বিষয় নিয়ে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ১২ আগস্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, খসড়া আইন দুটিতে বেশ কিছু ইতিবাচক বিষয় রয়েছে। তবে যেসব বিধান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনে সবচেয়ে বেশি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে বলে অংশীজনেরা সতর্ক করেছিলেন, সেগুলো বহাল রাখা হয়েছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়াতেও দায়মুক্তি-সহায়ক বিভিন্ন ধারা রয়ে গেছে। গুমের মতো স্পর্শকাতর ও নির্দয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের আওতার সম্পূর্ণ বাইরে রেখে এককভাবে ন্যস্ত করা হয়েছে পুলিশের হাতে।

এক বিবৃতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেছিল, তাদের মতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া দায়মুক্তি ও অস্বীকারের সংস্কৃতিই টিকিয়ে রাখবে।

দলটির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির এক গোলটেবিলে অভিযোগ করা হয়, খসড়া আইনে কমানো হয়েছে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা। গুমের অভিযোগের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে দেওয়ায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে বলেও বলা হয় সেখানে।

আলোচিত বিল দুটি এবারের অধিবেশনেই তোলা হচ্ছে, এবং একই অধিবেশনে পাসও হতে পারে। তেমনটা হলে এ নিয়ে সংসদে উত্তাপ তৈরি হতে পারে বলে বিরোধী দলের সূত্রে আভাস মিলেছে।

সাধারণত আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তা বিল আকারে সংসদে তোলেন। এরপর বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে।

কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে বিলটি বিবেচনা ও পাসের প্রস্তাব তোলেন মন্ত্রী। এ পর্যায়ে সংসদ সদস্যরা বিলটি জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিতে পারেন এবং নিজেদের প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্যও দিতে পারেন। এরপরের ধাপে সুযোগ থাকে সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার ও তা নিয়ে আলোচনার।

আইন প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের মতো নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে এই অধিবেশনে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠনের কথা রয়েছে।

সংসদে স্থায়ী কমিটি আছে মোট ৫০টি। চলতি সংসদে এখন পর্যন্ত গঠিত হয়েছে ১৫টি — বিষয়ভিত্তিক ছয়টি ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক নয়টি।

কার্যপ্রণালিবিধি অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনের মধ্যেই মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে এই অধিবেশনেই গঠিত হবে বাকি ৩৫টি সংসদীয় কমিটি।

এ ছাড়া আবদুল মঈন খান ও আন্দালিভ রহমান পার্থকে যথাক্রমে পরিকল্পনা এবং আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল। তাঁরা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় এই দুটি কমিটিও পুনর্গঠন করতে হবে।

সূত্র: প্রথম আলো

৫ বার দেখা

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

আপনার মতামত সম্পাদক অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

সম্পর্কিত খবর