দ্বৈত নাগরিকদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ এবং তার মধ্য দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে ‘আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন’। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মোমবাতি প্রজ্বলন ও অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনটি।

কর্মসূচিতে ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব আলামিন আটিয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য শাকিল, হাসিব ইব্রাহিম, মোহাম্মদ নুর ও শাহীন তানভীরসহ অন্য নেতা-কর্মীরা।

সংগঠনটির বক্তব্য, বিএনপি সরকারের দ্বৈত নাগরিকদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করার সিদ্ধান্তে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি এবং দেশের সংবিধান — দুটোই লঙ্ঘিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব ও সাংবিধানিক যোগ্যতা জনসমক্ষে স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয় কর্মসূচি থেকে।

তাদের যুক্তি, সংবিধানের ৫৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতার প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক। আবার ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নেওয়া কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করা সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত। এই দুই বিধানের আলোকেই দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ রয়েছে যাঁদের বিরুদ্ধে, তাঁদের নিয়োগের বৈধতা ও সাংবিধানিক যোগ্যতা পরিষ্কার করার দাবি তোলে সংগঠনটি।

নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তাঁদের দাবি, সেই বিতর্কিত চর্চারই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে বর্তমান সরকার।

তাঁদের বক্তব্য, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের সময় দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে সংবিধান, জাতীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

কর্মসূচি থেকে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব ও সাংবিধানিক যোগ্যতা যাচাইয়ে স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।