সংকটে থাকা কয়েকটি বিমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি ও অন্যান্য সম্পদ নগদায়ন করে গ্রাহকদের বকেয়া দাবি পরিশোধ শুরু হবে আগামী সপ্তাহ থেকে। প্রথম ধাপে সাত থেকে আটটি কোম্পানির গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুই দিনব্যাপী এক আবাসিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন। কর্মশালাটির আয়োজন করে ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ)।
তিনি জানান, বিমা কোম্পানিগুলোর হাতে থাকা সম্পদ বিক্রি এবং ট্রেজারি বন্ড ও এফডিআরসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ নগদায়ন করে পাওয়া অর্থ গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি কোম্পানির সম্পদ থেকে পাওয়া টাকা আইডিআরএর তদারকিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে; আগামী সপ্তাহ থেকেই তা গ্রাহকদের দেওয়া শুরু হবে।
তাঁর ভাষায়, ‘তাদের যত জমি বিক্রি হয়ে লিকুইডেট হতে থাকবে, ব্যাংকে টাকা আসবে, আমরা গ্রাহকদের দিতে থাকবো।’
দাবি পরিশোধে ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ (এফআইএফও) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে জানান তিনি — অর্থাৎ যে গ্রাহকের দাবি আগে এসেছে, অগ্রাধিকার পাবেন তিনিই। এ জন্য কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে দাবির তালিকা সংগ্রহ করে তা নিরীক্ষকদের দিয়ে যাচাই করা হয়েছে।
প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সেখানে নিরীক্ষক রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোম্পানিগুলোর সরাসরি ওই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না; আইডিআরএর তদারকিতে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই টাকা পরিশোধ করা হবে।
বকেয়া দাবি প্রসঙ্গে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কথা উল্লেখ করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, কোম্পানিটির প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার দাবি পরিশোধ না করার বিষয় রয়েছে। এ কারণে আপাতত প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বর্ষের নতুন প্রিমিয়াম গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে নবায়ন প্রিমিয়াম নেওয়ার সুযোগ আছে।
তিনি জানান, ফারইস্টের ফেনীতে থাকা একটি জমি বিক্রি এবং কিছু বন্ড তরলীকরণ করে পাওয়া অর্থ ইতিমধ্যে হাতে এসেছে। সেই টাকা দিয়েই আগামী সপ্তাহে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ শুরু হবে।
প্রাথমিকভাবে কয়েক শ কোটি টাকা দিয়ে কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি। কোম্পানিটির আরও কয়েকটি জমি বিক্রির জন্য দরপত্র দেওয়া হচ্ছে; সেসব সম্পদ বিক্রি হলে পাওয়া অর্থও পর্যায়ক্রমে দাবি পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।
বিমা খাতে গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোকে আইডিআরএর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন মীর নাদিয়া নিভিন। তাঁর বক্তব্য, পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষাই সংস্থাটির মূল দায়িত্ব। যেসব কোম্পানি গ্রাহকদের পাওনা দিতে পারছে না, তাদের সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।