শিক্ষা

‘শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জরুরি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ আগস্ট ২০২৬, ৬:১১ সকাল
‘শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জরুরি’
ছবি: জাগো নিউজ

শুধু বই পড়ে জ্ঞান অর্জন কিংবা বড় ডিগ্রি পেলেই প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি বলেন, শিক্ষার সঙ্গে মানবিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে। যে শিক্ষায় বড়দের প্রতি সম্মান, ছোটদের প্রতি স্নেহ আর বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি হয় না, সমাজ বা রাষ্ট্রের কাজে আসে না তা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করতেই দিনব্যাপী এই আয়োজন।

জাহিদুল ইসলামের মতে, প্রকৃত মানুষ গড়ে তোলার কাজে বইয়ের ভূমিকাই সবচেয়ে বড়। তাঁর ভাষায়, বই এমন এক বাহন — যা পাঠককে অতীতের কাছে পৌঁছে দেয়, বর্তমানকে বুঝতে শেখায়, আবার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজাতেও সাহায্য করে।

বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য হয়ে উঠতে হবে। দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ বিপুল জনগোষ্ঠী; প্রতিটি মানুষকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে।

শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, কেবল সামনের দুটি চোখ নয়, শিক্ষার মাধ্যমে মনের চোখও খুলতে হবে। যে শিক্ষা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে, বড়দের সম্মান করতে ও ছোটদের ভালোবাসতে শেখায়, সেই শিক্ষাতেই শিক্ষিত হতে চান তাঁরা।

সমাজে বাড়তে থাকা আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষ সামাজিক জীব; সমাজ ও দেশকে ভালো না রেখে কেউ একা ভালো থাকতে পারেন না। অর্জিত শিক্ষা সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে না লাগলে বড় ডিগ্রি কিংবা সনদও কাউকে স্মরণীয় করে রাখতে পারে না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ রয়েছে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নিরাপদ ও মানবিক একটি রাষ্ট্র গড়ার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।

প্রযুক্তি দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহারের ওপরও জোর দেন তিনি। তাঁর কথায়, প্রযুক্তি কার্যকর সেবক হতে পারে, আবার বিপজ্জনক প্রভুও। দক্ষ হাতে ব্যবহার করতে না জানলে ব্যক্তি ও সমাজ দুয়েরই ক্ষতি ডেকে আনতে পারে এটি। সে কারণে বই পড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞানও অর্জন করতে হবে শিক্ষার্থীদের, শিখতে হবে তার নিরাপদ ও ইতিবাচক প্রয়োগ।

দেশের মেধাবী তরুণদের প্রতি তাঁর আহ্বান, নিজেদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে দেশের উন্নয়নেই। বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে দৃঢ় অবস্থানে নিতে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ৪৮ বছর ধরে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে দেশব্যাপী বইপড়া কর্মসূচি চালাচ্ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ১ হাজার ৪০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দেড় লাখ শিক্ষার্থী এতে যুক্ত।

২০২৫ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম নগরের ১০১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে মূল্যায়নে কৃতিত্ব অর্জনকারী ৫ হাজার ৮৯৬ জনকে দিনব্যাপী উৎসবের দুটি পর্বে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. বিল্লাল হোসেন খান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, বিশিষ্টজন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

সূত্র: জাগো নিউজ

২ বার দেখা

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

আপনার মতামত সম্পাদক অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

পরের খবর

জাবির মাঠ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, স্থগিতাদেশের পরও চলছে কাজ

জাবির মাঠ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, স্থগিতাদেশের পরও চলছে কাজ