শিক্ষা

জাবির মাঠ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, স্থগিতাদেশের পরও চলছে কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ আগস্ট ২০২৬, ৫:৫৪ ভোর
জাবির মাঠ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, স্থগিতাদেশের পরও চলছে কাজ
ছবি: জাগো নিউজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল-সংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন ও দরপত্র ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে কাজ সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করেই ফের শুরু হয়েছে সংস্কারকাজ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ঠিকাদার আবুল হোসেন কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তা বন্ধের চেষ্টা করেন। তবে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাধার মুখে সফল হননি তাঁরা। এ সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের তর্ক-বিতর্কও হয়।

খবর পেয়ে সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীদের প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বোঝানোর চেষ্টা করলেও কাজ বন্ধ করা যায়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাঠে সংস্কারকাজ চলছিল।

ঘটনা প্রসঙ্গে সহকারী প্রক্টর জানান, সকালে আবার কাজ শুরুর খবর পেয়ে উপাচার্য তাঁকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন — অনিয়মের অভিযোগে যেহেতু প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে হবে। জুমার নামাজের সময় হয়ে যাওয়ায় নামাজ শেষে বাকি আলোচনা হবে বলে ফিরে আসেন তিনি।

কাজ চলমান থাকা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মাঠের এই সংস্কার বহুল প্রতীক্ষিত। প্রশাসনও চায় কাজ হোক, শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার জায়গা পাক। তবে কোনো ভালো কাজ দুর্নাম নিয়ে শেষ করতে চান না তাঁরা। নিয়মবহির্ভূতভাবে চলমান কাজ অতি দ্রুত বন্ধ করে তদন্ত শেষে সঠিক নিয়মে পুনরায় তা সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রশাসনের কাজ বন্ধের নির্দেশ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন ঠিকাদার আবুল হোসেন। তাঁর ভাষ্য, কাজ বন্ধের কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রশাসন দিয়েছে — এমন কিছু তিনি জানতেন না; প্রতিদিনের মতোই সকালে এসে কাজ শুরু করেছেন।

অন্যদিকে কাজ বন্ধে বাধা দেওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চললেও মাঠ সংস্কারের কাজ বন্ধ রাখা উচিত নয়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী শাকিল বলেন, তাঁদের চাওয়া — অভিযোগ যেহেতু উঠেছে, তদন্ত হোক; পাশাপাশি মাঠের সংস্কারকাজও চলতে থাকুক।

হল সংসদের ভিপি অমিত কুমার বণিক বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই মাঠ সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই কাজ শুরু হয়েছিল বলে তাঁরা জানেন। হঠাৎ কাজ বন্ধের কারণ শিক্ষার্থীদের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। কোনো অভিযোগ বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হোক, কিন্তু শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রয়োজনের একটি কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার পিপিআর লঙ্ঘন এবং দরপত্র ছাড়াই মাঠ সংস্কারের কাজ দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাঠ সংস্কারে ক্রয় বিধিমালা লঙ্ঘন ও দরপত্র ছাড়া কাজ দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রশাসনের নজরে এসেছে; এর পরিপ্রেক্ষিতেই চলমান কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. খন্দকার শরিফুল হুদা ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক জাকির হোসেন। সদস্যসচিব করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুর রহমানকে।

আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

সূত্র: জাগো নিউজ

২ বার দেখা

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

আপনার মতামত সম্পাদক অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

পরের খবর

‘লিখতে হবে মনের টানে, খ্যাতি বা টাকার জন্য নয়’

‘লিখতে হবে মনের টানে, খ্যাতি বা টাকার জন্য নয়’