আন্তর্জাতিক

‘বাংলায় আবার পরিবর্তন আসবে’ — মমতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৪ সকাল
‘বাংলায় আবার পরিবর্তন আসবে’ — মমতা
ছবি: জাগো নিউজ

বিজেপি ‘চুরি করে বাংলা (পশ্চিমবঙ্গ) দখল করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। তাঁর দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই — বাংলায় আবার পরিবর্তন আসবে এবং খুব শিগগিরই তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাখিবন্ধন ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আরেকটি ‘পরিবর্তন’ আসন্ন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মমতা বলেন, চুরি করে বাংলা দখল করা হয়েছে; তবে চিন্তার কিছু নেই, বাংলায় আবার পরিবর্তন আসবে এবং খুব শিগগিরই ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির জবাব বিজেপির লোকেরাই দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দলটির বিরুদ্ধে পেশিশক্তির ওপর নির্ভর করার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ‘লুম্পেন’ বা উচ্ছৃঙ্খল লোকজন পশ্চিমবঙ্গজুড়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করছে।

তিনি বলেন, ঈশ্বর বলেও একটা জিনিস আছে। তাঁকে বের হতে দেওয়া হবে না বলে যাঁরা হুমকি দিয়েছিলেন, তাঁদের সাহস কতটা তা দেখে নিতে চান তিনি। কেবল পেশিশক্তি দিয়ে সবকিছু চালানো যায় না বলেও মন্তব্য করেন।

মধ্য কলকাতায় টিএমসিপির প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই আসে তাঁর এসব মন্তব্য। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সড়কের এক পাশে সভা আয়োজনের কথা ছিল, আর পাশের লেন দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছিল।

তবে জনসমাগমের কারণে যান চলাচলের লেনে যানজট তৈরি হলে মমতা নিজের সভা থামিয়ে পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠানটি ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।

টিএমসিপির কালিঘাটপন্থী অংশের মূল কর্মসূচি হয় ক্যাথেড্রাল রোডে। অন্যদিকে ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী অংশ তাদের কর্মসূচি করে এসপ্ল্যানেডের রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই পক্ষের কাউকেই মায়ো রোডে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

রাজনৈতিক নেতাদের যাতায়াত ঘিরে পুলিশের ব্যবস্থাপনা নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, একটি গাড়িবহরের চলাচলের জন্য তাঁর এলাকার সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কারও নাম উল্লেখ করেননি তিনি; মূল প্রতিবেদনে ওই গাড়িবহরকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মমতা বলেন, বাবু বের হয়েছেন, তাই রাস্তা বন্ধ। ৪০টি গাড়ির কনভয় চলছে। পুলিশ দাঁড়িয়ে তাঁর পাড়ার সব রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। বাবু কখন যাবেন, তাঁকে কি স্যালুট করতে হবে — এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, স্যালুট করতে হলে নবান্নে গিয়ে করুন।

তিনি আরও বলেন, নবান্ন তৈরি হয়েছিল তাঁরই সরকারের আমলে; রাইটার্স বিল্ডিংয়ের কাজও শুরু হয়েছিল তাঁদের সময়েই।

এদিকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া সতর্কবার্তায় সমর্থন জানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জী। কুণাল ঘোষের মন্তব্যকে সমর্থন করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা।

হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সুবিধা নিয়ে শেষ সময়ে নিজেদের রক্ষা করতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘বিসি’ বা ‘বালিশ-চাটা’ গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, ভবিষ্যতে তাঁদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সূত্র: জাগো নিউজ

১ বার দেখা

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

আপনার মতামত সম্পাদক অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

পরের খবর

নেপালে কেন বারবার বিপর্যয় নেমে আসছে, হিমালয়ের বুকেই কি বিপদ লুকিয়ে আছে

নেপালে কেন বারবার বিপর্যয় নেমে আসছে, হিমালয়ের বুকেই কি বিপদ লুকিয়ে আছে