ট্রান্সজেন্ডার ক্রিকেটার অনয়া বাঙ্গারকে অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিটি ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার নারী ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার মারিয়ান ক্যাপ। তাঁর ভাষায়, ‘এটা একেবারেই হাস্যকর, এমনটা কোনোভাবেই অনুমোদন করা উচিত নয়।’

অনয়া বাঙ্গার ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান। চলতি বছরের শুরুতে থাইল্যান্ডে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারি করানোর পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়ার পর এখন অস্ট্রেলিয়ায় একটি ক্লাব খুঁজে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মারিয়ান ক্যাপ। একটি সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘Absolutely ridiculous, this should NOT be allowed!’ পাশাপাশি নারী ক্রিকেটের শীর্ষ টুর্নামেন্ট উইমেন্স বিগ ব্যাশ লিগের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টকেও ট্যাগ করেন তিনি।

ক্যাপের আপত্তির মূল জায়গা হলো, অনয়া কেবল কমিউনিটি ক্রিকেটেই থেমে থাকবেন না — নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার এলিট নারী ক্রিকেটে খেলার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

২০২৭ সাল পর্যন্ত কমিউনিটি ক্রিকেটে
অনয়ার যোগ্যতা নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেন সংস্থাটির হেড অব ইন্টিগ্রিটি জ্যাকুই পার্ট্রিজ। জানানো হয়, ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো স্টেট বা টেরিটরির প্রিমিয়ার ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন তিনি। কারণ সিএর নীতিমালায় প্রিমিয়ার ক্রিকেটকে এলিট নয়, কমিউনিটি ক্রিকেট হিসেবেই ধরা হয়। অর্থাৎ এই পর্যায়ে তাঁর অংশগ্রহণে এলিট ক্রিকেটের যোগ্যতার নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে না।

তবে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে এলিট ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে তাঁকে।

সিএ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁকে রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষায় সিরাম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা থাকতে হবে ১০ nmol/L-এর নিচে। পাশাপাশি সংস্থাটির প্রযোজ্য নীতিমালার অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।

সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনয়া। মুম্বাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, একটা সময় মনে হয়েছিল হয়তো আর কখনো ক্রিকেট খেলা হবে না। তাঁর ভাষায়, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য নতুন করে মাঠে ফেরার দরজা খুলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটা আমার জন্য দারুণ একটি দিন। আমি ক্রিকেট খেলতে পারব- এটা জানার পর খুব ভালো লাগছে। একটা সময় মনে হয়েছিল, হয়তো আর কখনো ক্রিকেট খেলতে পারব না। কিন্তু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আমাকে আরেকটি সুযোগ দিয়েছে।’ অস্ট্রেলিয়ায় খেলার জন্য ইতিমধ্যে ক্লাব খোঁজার প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন তিনি।