দিনটা যদি এমন হয় — বিছানা, অফিস, আবার বাড়ি, তারপর সোফা, সেখান থেকে বিছানা; তাহলে দরকারের চেয়েও বেশি সময় ঘরের ভেতরেই কাটছে আপনার। সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব অপরাহ্ উইনফ্রে চিকিৎসক ড. জন লা পুমার সঙ্গে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। আধুনিক জীবনে ঘরের ভেতর বেশি সময় কাটানোর এই প্রবণতাকে তিনি বলছেন ‘ইনডোর এপিডেমিক’। আমাদের অজান্তেই এটি জীবনের নানা ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। সমাধানে তাঁর পরামর্শটি সহজ — প্রতিদিন অন্তত ১৭ মিনিট বাইরে কাটান।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ দিনের প্রায় ৯৩ শতাংশ সময় ঘরের ভেতরেই কাটায়। বাড়ি, অফিস কিংবা যাতায়াত — সব মিলিয়ে দিনের বড় একটা অংশ কেটে যায় চারদেয়ালের মধ্যেই।
এতে প্রকৃতির আলো, খোলা বাতাস, হাঁটাচলা আর গাছপালার কাছাকাছি থাকার সুযোগ কমে যায়। ইতালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বোর্ড-সার্টিফায়েড মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (ইন্টারনিস্ট), প্রশিক্ষিত শেফ ও প্রকৃতিবান্ধব পদ্ধতিতে চাষ করা কৃষক ড. লা পুমার নতুন বই ‘ইনডোর এপিডেমিক’-এ ঘরে বেশি সময় কাটানোর সঙ্গে ঘুম, মনোযোগ ও মানসিক চাপের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনযাপনের সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানের যোগসূত্র নিয়ে কাজের জন্য সুপরিচিত তিনি। ‘কালিনারি মেডিসিন’ বা খাদ্যভিত্তিক চিকিৎসা ধারণার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবেই ধরা হয় তাঁকে।
ড. লা পুমার মতে, দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরে কাটালে প্রাকৃতিক আলো, শরীরচর্চা ও প্রকৃতির সংস্পর্শ — এই তিনটিরই সুযোগ কমে যায়। অথচ এসবের সঙ্গে যুক্ত আমাদের মন-মেজাজ ও সামগ্রিক ভালো থাকা। তবে সমাধানের জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার নেই; প্রতিদিন কিছুটা সময় বাইরে বেরোলেই হলো।
সব সমস্যারই সমাধান আছে, আর এটির সমাধান বেশ সহজ। এর জন্য হঠাৎ ভোরে উঠে পাহাড়ে হাঁটতে যাওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে না। শুধু ঘরের বাইরে বেরোতে হবে — তা-ও ১৭ মিনিটের জন্য।
এই ১৭ মিনিটের পরামর্শের পেছনে গবেষণাও আছে। ২০১৯ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ইংল্যান্ডের প্রায় ২০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায়, সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট প্রকৃতির মধ্যে কাটানো মানুষদের স্বাস্থ্য ও ভালো থাকার অনুভূতি তুলনামূলক বেশি।
সপ্তাহে ২০০ থেকে ৩০০ মিনিটের কাছাকাছি গেলে উপকারের মাত্রা খুব একটা বাড়েনি। আর এই ১২০ মিনিট একবারে কাটাতে হবে এমনও নয় — সপ্তাহজুড়ে ভাগ করে নেওয়া যায়।
এবার ১২০ মিনিটকে সাত দিনে ভাগ করুন; প্রতিদিন দাঁড়ায় ১৭ মিনিটের একটু বেশি। ড. লা পুমার পরামর্শের ভিত্তিটা এখান থেকেই।
তবে অফিস থেকে পার্কিংয়ে যাওয়ার পাঁচ মিনিটকে হিসাবে ফেললে চলবে না। উদ্দেশ্য হলো ইচ্ছা করেই দিনের কিছুটা সময় বাইরে কাটানো — সম্ভব হলে গাছপালা, খোলা আকাশ বা প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে।