লাইফস্টাইল

৭ মাসে ৩৭ কেজি ওজন কমিয়ে র‍্যাম্পে ফিরেছেন মডেল মাশিয়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ আগস্ট ২০২৬, ৭:৩৭ সকাল
৭ মাসে ৩৭ কেজি ওজন কমিয়ে র‍্যাম্পে ফিরেছেন মডেল মাশিয়াত
ছবি: প্রথম আলো

মা হওয়ার পর শরীরে আসে নানা পরিবর্তন। সন্তান জন্মের পর বাড়তি ওজন কমিয়ে আগের ছন্দে ফেরা তাই অনেকের জন্যই কঠিন। তবে ইচ্ছাশক্তি আর নিয়ম মেনে সেই ছন্দেই ফিরেছেন মডেল মাশিয়াত রহমান — তা-ও একবার নয়, দুবার। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর মাত্র সাত মাসে ৩৭ কেজি ওজন কমিয়ে আবার র‍্যাম্পে ফিরেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাচ্ছেন হুমায়রা মাহজাবিন

মাশিয়াত রহমান পেশায় মডেল ও অভিনেত্রী। এই পেশায় নিজেকে ফিট রাখা কতটা জরুরি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। র‍্যাম্পের আলোয় নিজেকে মেলে ধরতে যেমন আত্মবিশ্বাস দরকার, তেমনি দরকার শরীরের যত্ন ও নিয়ম মেনে চলা।

কিন্তু একজন নারী যখন মা হন, শরীরে আসে স্বাভাবিক নানা পরিবর্তন। মাশিয়াতের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি — দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর তাঁর ওজন বেড়ে গিয়েছিল ৩৭ কেজি। তবে এ নিয়ে একদমই বিচলিত ছিলেন না তিনি, কারণ বাড়তি ওজন কমিয়ে ছন্দে ফেরার অভিজ্ঞতা তাঁর আগেও ছিল।

প্রথমবার মা হওয়ার পর ৯৮ কেজি থেকে ৫২ কেজিতে নেমে এসেছিলেন তিনি। একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন দ্বিতীয়বারও। ২০২৬ সালে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর ওজন দাঁড়ায় ৯২ কেজিতে; সাত মাসের মধ্যে সেখান থেকে ৩৭ কেজি কমিয়ে এখন তা ৫৫ কেজি। এর মধ্যে ১১ কেজি কমেছে স্বাভাবিকভাবেই, বাকি ২৬ কেজি কমাতে ডায়েটের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন তিনি।

কোন অনুপ্রেরণায় এমন পরিবর্তন সম্ভব হলো — জানতে চাইলে মাশিয়াত বলেন, ‘আমি আমার কাজ ভালোবাসি। অনেক চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এই জায়গা তৈরি করেছি। তাই আবারও নিজেকে সেই জায়গায় দেখতে চেয়েছি। নিজের ওপর বিশ্বাস আর ইচ্ছাশক্তিই আমাকে এতটা পথ এগিয়ে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছাই আমাকে আবার কাজের জায়গায় ফিরিয়েছে।’

তাঁর কাছে ডায়েট মানে না খেয়ে থাকা নয়, বরং সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। সি-সেকশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ায় তেমন কোনো শরীরচর্চা করেননি তিনি; নিয়মিত হাঁটাই ছিল শারীরিক পরিশ্রমের একমাত্র পথ।

সাত মাসের এই যাত্রায় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেছেন প্যানকেয়ার হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সাজিয়া মাহমুদ। এই পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানেই প্রথম সন্তানের জন্মের পরও ওজন কমিয়েছিলেন মাশিয়াত। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি নিজের শরীর বুঝেই এগিয়েছেন তিনি।

তবে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে অন্যদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডায়েট ঠিক করে দিতে চান না তিনি। তাঁর মতে, সব মানুষের শরীর এক রকম নয় — একজনের জন্য যে ডায়েট কার্যকর, অন্যের শরীরে তা একইভাবে কাজ না-ও করতে পারে। তাই ওজন কমানোর আগে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে ভালো একজন ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়ার ওপরই জোর দেন তিনি।

সাজিয়া মাহমুদ বলেন, ‘আমার কাছে অনেক সেলিব্রিটি ডায়েটের পরামর্শ নিতে আসেন। তবে মাশিয়াত তাঁদের মধ্যে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, তাঁর মতো ধৈর্য আমি খুব কম ব্যক্তির মধ্যেই পাই। প্রথমবার তাঁকে শুধু একটু গাইড করেছিলাম, এরপর তিনি সিরিয়াসলি নিজেকে ফিট করেছেন। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর তিনি আবার আমার কাছে এলেন পরামর্শ নিতে; আবার কাজে ফিরতে চান। আমি তাঁকে সেভাবেই পরামর্শ দিলাম। তিনিও লেগে থেকে আবার নিজেকে ফিট করেছেন।’

এই পুষ্টিবিদ মনে করেন, অনেকেই ওজন কমাতে চান, কিন্তু মাঝপথে এসে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। শুরুতে দ্রুত ওজন কমতে দেখে উৎসাহ পান অনেকে, মাঝপথে গতি কমে গেলেই ছেড়ে দেন। কিন্তু সঠিকভাবে ওজন কমানো এমন এক প্রক্রিয়া, যেখানে সব সময় একই হারে ওজন কমে না। নিয়মিত পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়; কখনো এক মাস পর, কখনো ১৫ দিন পরই ডায়েট বদলাতে হতে পারে। সেভাবেই রুটিন মেনে চলতে হয় জীবনযাপন, খাবার ও ব্যায়ামে।

৩৭ কেজি ওজন কমানোই অবশ্য মাশিয়াতের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল না। নিজেকে আবার র‍্যাম্পে দেখা এবং পেশাগত জীবনে নিয়মিত হওয়াই ছিল পুরো যাত্রার মূল উদ্দেশ্য — যা পূরণও হয়েছে। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের সাত মাস পর গত ২২ আগস্ট একটি ফ্যাশন শো দিয়ে র‍্যাম্পে ফিরেছেন তিনি। বিরতির পর কাজে ফিরে এখন নিয়মিত মডেলিং ও অভিনয় করতে চান; নিজেকে ফিট রাখার পাশাপাশি বাড়াতে চান কাজের পরিধিও।

যাঁরা একই পথে হাঁটতে চান, তাঁদের উদ্দেশে মাশিয়াতের পরামর্শ, ‘লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে নিয়মিত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিন দিন ডায়েট করে চতুর্থ দিন যদি ছেড়ে দিই, তাহলে কোনো ডায়েটই কাজে আসবে না। ডায়েট মানে শুধু ওজন কমানো নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের অভ্যাস তৈরি করা। নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকলে এই অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব।’

ডায়েট মেনে চলা থেকে সন্তান জন্মের পর কাজে ফেরা — সব ক্ষেত্রেই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইচ্ছাশক্তি আর লক্ষ্যে স্থির থাকা। নিজের ক্ষেত্রে সেই ইচ্ছার সবচেয়ে বড় প্রমাণ — সাত মাস পর আবার র‍্যাম্পের আলোয় ফিরে আসা।

সূত্র: প্রথম আলো

৫ বার দেখা

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

আপনার মতামত সম্পাদক অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

সম্পর্কিত খবর