বিনোদন

২৩ বছর পর সেই নায়িকা এসে বললেন, ‘আমি বেঁচে আছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ আগস্ট ২০২৬, ৪:৪৫ ভোর
২৩ বছর পর সেই নায়িকা এসে বললেন, ‘আমি বেঁচে আছি’
ছবি: প্রথম আলো

দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু করেও হঠাৎ পর্দা থেকে উধাও হয়ে যাওয়া অভিনয়শিল্পীর সংখ্যা বলিউডে কম নয়। দর্শকের মনে প্রশ্ন থেকে যায় — কোথায় গেলেন তাঁরা? সেই তালিকার অন্যতম নাম মালিনী শর্মা। ২০০২ সালের সুপারহিট হরর ছবি ‘রাজ’-এর পর যাঁর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে বলে মনে হচ্ছিল, সেই অভিনেত্রীই একসময় নিঃশব্দে ছেড়ে দেন বলিউড। তবে এই বিদায় হতাশার গল্প ছিল না; ছিল নিজের পছন্দের জীবন বেছে নেওয়ার সচেতন সিদ্ধান্ত।

সম্প্রতি ২৩ বছর পর ক্যামেরার সামনে ফিরে মালিনী নিজেই বলেছেন, ‘আমি বেঁচে আছি। আমি এখানেই আছি।’ এই একটি বাক্যেই যেন মিটে গেছে বহু বছরের কৌতূহল।

মিউজিক ভিডিও থেকেই তারকাখ্যাতি

তাঁর অভিনয়জীবনের শুরু সিনেমায় নয়, মডেলিং দিয়ে। নব্বইয়ের দশকের শেষ ও ২০০০-এর শুরুর দিকে বম্বে ভাইকিংসের ‘কিয়া সুরত হ্যায়’ মিউজিক ভিডিও তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে। এরপর মিকা সিংয়ের ‘সাওয়ান মে লাগ গায়ি আগ’-এও দেখা যায় তাঁকে। ভারতীয় পপ মিউজিকের সেই সুবর্ণ সময়ে এই দুটি ভিডিওই তাঁকে পরিণত করে তরুণদের পরিচিত মুখে।

পরে টেলিভিশনের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ক্যাটস’-এ অভিনয় করেন মালিনী। নাফিসা জোসেফ ও কুলজিৎ রন্ধাওয়ার পাশে তাঁর উপস্থিতিও নজর কেড়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরে ওই দুই অভিনেত্রী আত্মহত্যা করেন, আর মালিনী বেছে নেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ।

‘রাজ’ বদলে দিয়েছিল পরিচয়

২০০২ সালে মুক্তি পায় বিক্রম ভাট পরিচালিত ‘রাজ’। বিপাশা বসু ও দিনো মোরিয়ার পাশাপাশি দর্শকের নজর কাড়ে মালিনীর উপস্থিতিও; বিশেষ করে ‘আপকে প্যায়ার মে’ গানটিতে তাঁকে আজও মনে রেখেছেন অনেকে। ছবিটি পায় বিশাল বাণিজ্যিক সাফল্য। অনেকেই ভেবেছিলেন, এখান থেকেই শুরু হবে তাঁর দীর্ঘ বলিউড-যাত্রা। কিন্তু বাস্তবে ঘটে ঠিক উল্টোটা।

ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়

‘রাজ’-এর সময়েই অভিনেতা প্রিয়াংশু চ্যাটার্জিকে বিয়ে করেন মালিনী। কিন্তু ‘তুম বিন’ অভিনেতার সঙ্গে সম্পর্ক বেশি দিন টেকেনি; কয়েক বছরের মধ্যেই হয় বিচ্ছেদ। এর কিছুদিন পরই আসে আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত — ২০০২ সালে ‘এনকাউন্টার’ ছবির শুটিং শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রকল্পটি ছেড়ে দেন তিনি। পরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিনয়ের চেয়ে ক্যামেরার পেছনে কাজ করাতেই তখন বেশি আগ্রহ ছিল তাঁর।

হারিয়ে যাননি, বদলে ফেলেছেন জীবন

বলিউড ছাড়ার সময় কোনো নাটকীয় ঘোষণা দেননি মালিনী; ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নেন আলোচনার বাইরে। অনেক বছর পর ‘দ্য স্লো লোকাল’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেন তিনি। গোড়ার দিকে প্রকল্পটি ছিল কমিউনিটিকেন্দ্রিক — স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্প, ছোট ছোট কর্মশালা আর শিশুদের গল্প বলার আসর নিয়ে। বাড়িতে তৈরি রুটি, গ্রানোলা, জ্যাম, পিনাট বাটার, দক্ষিণ ভারতীয় কফি আর নানা ধরনের তেল নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।

শহর ছেড়ে পাহাড়ে

সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে ‘দ্য স্লো লোকাল’ প্রকল্পটিও। এখন মালিনী একটি ফার্মস্টে চালান মহারাষ্ট্রের সাহ্যাদ্রি পাহাড়ে, পুনে থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্বে। সেখানে ফল-সবজি চাষ করেন নিজেই; খামারে ফলানো শাকসবজি দিয়েই রান্না হয় অতিথিদের খাবার। তাঁর কাছে কৃষিকাজ কেবল পেশা নয়, জীবনযাপনের দর্শন।

‘এটাই আমাদের ছোট্ট জঙ্গল’

তাঁর ফার্মের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য — প্রকৃতিকে বদলে দিতে চান না তিনি। জমিতে আগে থেকেই থাকা অর্জুন, হরীতকী, কোকুম, পলাশ ও শিকাকাইগাছ সংরক্ষণ করেছেন; পাহাড়ের বড় একটি অংশে হাতই দেননি — বন্য পরিবেশটুকু যেন থেকে যায় অটুট। তাঁর ভাষায়, ‘এটা আমাদের নিজের ছোট্ট জঙ্গল। আমরা চাই না এই প্রাকৃতিক আবাস নষ্ট হোক।’

২৩ বছর পর ক্যামেরায় ফেরা

সম্প্রতি ‘দ্য স্লো লোকাল ডায়েরিজ’ নামে একটি ভিডিও সিরিজ শুরু করেছেন তিনি। প্রথম ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘অনেক দিন পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম। এবার মেকআপ নেই, সংলাপ নেই, শুধু আমি।’ ভিডিওতে মালিনী বলেন, ‘“রাজ”-এর ২৩ বছর পর আবার ক্যামেরার সামনে। যাঁরা জানতে চাইছিলেন আমি কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলাম, তাঁদের বলছি—আমি বেঁচে আছি, আমি এখানেই আছি।’

বলিউডে ফেরার সম্ভাবনা?

এক ভক্ত জানতে চেয়েছিলেন, বলিউড ছেড়ে দেওয়ার জন্য কোনো আফসোস আছে কি না। মালিনীর উত্তর, ‘কে বলেছে আমি ছেড়ে দিয়েছি? আমি শুধু দিক বদলেছি। চাইলে আবার ফিরতেও পারি, আবার চলে যেতেও পারি।’

সূত্র: প্রথম আলো

৪ বার দেখা

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

আপনার মতামত সম্পাদক অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

পরের খবর

আমি চাই না, মানুষ আশাহত হোক

আমি চাই না, মানুষ আশাহত হোক