দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন অভিনেতা কাজী মারুফ। সেখানে থাকার সুবাদে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনের নানা সংগ্রাম, স্বপ্ন ও বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নির্মিত হয়েছিল ‘গ্রিন কার্ড’। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রায় দুই বছর পর সিনেমাটি এসেছে ইউটিউবে, আর সেখানে দেখে আবেগাপ্লুত হচ্ছেন দর্শক।
কাজী হায়াৎ ও রওশন আরা নীপার যৌথ পরিচালনায় নির্মিত ছবিটি ২০২৪ সালের রোজার ঈদে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সেবার ঈদে প্রায় ডজনখানেক সিনেমা মুক্তি পাওয়ায় খুব কম প্রেক্ষাগৃহেই জায়গা পেয়েছিল এটি। ফলে চাইলেও অনেক দর্শক বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পাননি।
সেই দর্শকদের জন্যই এবার ইউটিউবে এসেছে কাজী মারুফ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমা।
চ্যানেল আই টিভির ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে ছবিটি। প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সিনেমাটি দেখেছেন ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ।
দর্শকদের বড় একটি অংশ আবেগাপ্লুত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ইউটিউবের মন্তব্যঘরে প্রায় হাজারখানেক দর্শক নিজেদের অনুভূতি লিখেছেন; অনেকেই বলেছেন, প্রবাসীদের জীবনসংগ্রামের গল্প তাঁদের কাঁদিয়েছে।
এমডি আলামিন নামের একজন লিখেছেন, ‘গ্রিন কার্ড অসাধারণ লাগল। আমার চোখে পানি চলে আসছে।’ রেজাউল করিম লিখেছেন, ‘সত্যি কেঁদে দিয়েছি মুভিটা দেখে।’
সালমা নামের একজনের মন্তব্য, ‘মারুফ সুন্দর অভিনয়ের চেষ্টা করেছে। বাস্তবতা নিয়ে এমন সিনেমা আরও চাই।’ শামীম নামের আরেক দর্শক লিখেছেন, ‘মারুফের অভিনয় মনে দাগ কেটেছে, কাঁদলাম।’
ইতালিপ্রবাসী তোফায়েল চৌধুরীর মন্তব্যে উঠে এসেছে প্রবাসজীবনের সঙ্গে গল্পটির মিল। তিনি লিখেছেন, ‘এই মুভি সিনেমা হলে আরও ভালো চলা উচিত ছিল। এত সুন্দর বাস্তব গল্প নিয়ে বানানো এই মুভি। আমাদের মতো প্রবাসীদের জীবন এমনই।’
এমডি ইউসুফ নামের একজনের ভাষায়, ‘গ্রিন কার্ড দেখে আমার দুই চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়েছে। খুব অসাধারণ মুভি। কঠিন মায়ার বন্ধন ছেড়ে চলে যেতেই হবে একদিন, অথচ দুনিয়ার মানুষদের কত অহংকার।’
সাইফুল নামের আরেক দর্শক লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ইউরোপ, আমেরিকায় যাওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তারা নিজেকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। তারই প্রতিচ্ছবি এই মুভিতে তুলে ধরা হয়েছে।’