হলিউডে এমন কিছু পরিচালক আছেন, সিনেমার নাম না বলেও কেবল দৃশ্য দেখে যাঁদের চিনে ফেলা যায়। ডেভিড ফিঞ্চার তাঁদেরই একজন। বৃষ্টিতে ভেজা অন্ধকার শহর, নীলচে-ধূসর আলো, অস্বস্তিকর নীরবতা, দীর্ঘ অনুসন্ধান, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত চরিত্র আর শেষে দর্শকের সামনে ছুড়ে দেওয়া এমন এক প্রশ্ন—যার উত্তর সহজে মেলে না—এসবই যেন তাঁর নিজস্ব স্বাক্ষর।
১৯৬২ সালের ২৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ডেনভারে জন্ম ফিঞ্চারের। ক্যামেরার পেছনে তাঁর যাত্রাটা অবশ্য সিনেমা দিয়ে শুরু হয়নি। আশির দশকে কাজ করেছেন ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ও ক্যামেরা বিভাগে। পরে সংগীতের ভিডিও নির্মাণে গড়ে তোলেন নিজের আলাদা ভাষা। ম্যাডোনার ‘এক্সপ্রেস ইয়োরসেলফ’ ও ‘ভোগ’-এর মতো মিউজিক ভিডিও তাঁকে আলোচনায় নিয়ে আসে।
পরিচালক হিসেবে সিনেমায় তাঁর অভিষেক ১৯৯২ সালে, ‘এলিয়েন ৩’ দিয়ে। তবে এই ছবি তাঁকে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা দেয়নি। বরং সেই কঠিন অভিজ্ঞতাই পরে ফিঞ্চারকে গড়ে তুলেছে আরও নিয়ন্ত্রণপ্রিয়, খুঁতখুঁতে ও নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির পরিচালক হিসেবে।
বড় সাফল্য আসে ১৯৯৫ সালের ‘সেভেন’ দিয়ে। এরপর ‘দ্য গেম’, ‘ফাইট ক্লাব’, ‘প্যানিক রুম’, ‘জোডিয়াক’, ‘দ্য কিউরিয়াস কেস অব বেঞ্জামিন বাটন’, ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’, ‘দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগন ট্যাটু’, ‘গন গার্ল’, ‘ম্যানক’ ও ‘দ্য কিলার’—প্রতিটি ছবিতেই তিনি পরীক্ষা চালিয়েছেন নতুন কোনো দিক নিয়ে। তাঁর তিনটি সিনেমা—‘দ্য কিউরিয়াস কেস অব বেঞ্জামিন বাটন’, ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ ও ‘ম্যানক’—পেয়েছে সেরা পরিচালকের অস্কার মনোনয়ন।
তাঁর সিনেমা এত আলাদা কেন
ফিঞ্চারের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত তাঁর নিয়ন্ত্রণ। তাঁর ছবিতে খুব কম কিছুই কাকতালীয় মনে হয়। ক্যামেরার অবস্থান, আলো, শব্দ, সম্পাদনা, অভিনয়ের গতি—সবই যেন বাঁধা একটি নির্দিষ্ট ছকে।
আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এই নিখুঁত নির্মাণ কখনোই তাঁর সিনেমাকে যান্ত্রিক করে তোলে না। উল্টো মানুষের ভেতরের বিশৃঙ্খলাকে আরও তীব্র করে দেয়।
তাঁর ক্যামেরা অনেক সময় চরিত্রের একেবারে কাছাকাছি চলে যায়, কিন্তু তাদের বিচার করে না। ‘জোডিয়াক’-এ যেমন হত্যাকারীকে ধরার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তাকে ধরার চেষ্টাটাই। তদন্তকারীরা বছরের পর বছর একই সূত্রের পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজেরাই আক্রান্ত হন একধরনের আবেশে।
‘ফাইট ক্লাব’-এ আবার ব্যক্তির মানসিক সংকট ধীরে ধীরে রূপ নেয় সামাজিক ও অস্তিত্বের সংকটে। ‘গন গার্ল’-এ ব্যক্তিগত সম্পর্ক হয়ে ওঠে গণমাধ্যম, জনমত ও সামাজিক অভিনয়ের নির্মম এক খেলা।
তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য—দর্শককে সহজ উত্তর তিনি দিতে চান না। তাঁর চরিত্রগুলো প্রায়ই নৈতিকভাবে ধূসর; ভালো-মন্দের প্রচলিত বিভাজন সেখানে খাটে না।
বিজ্ঞাপন
‘সেভেন’ (১৯৯৫): অন্ধকারের নতুন ভাষা
ফিঞ্চারের নাম উচ্চারণ করলেই সবার আগে যে ছবিটির কথা মনে আসে, সেটি ‘সেভেন’। ব্র্যাড পিট ও মরগ্যান ফ্রিম্যান অভিনীত এই ক্রাইম থ্রিলারে দুই গোয়েন্দা ছুটতে থাকে এমন এক সিরিয়াল কিলারের পেছনে, যে খুনের জন্য বেছে নেয় খ্রিষ্টীয় ধর্মের সাতটি মারাত্মক পাপকে।
কিন্তু ‘সেভেন’ কেবল খুনের রহস্য নয়। ছবিটির আসল শক্তি এর পরিবেশে। শহরটি যেন সব সময় বৃষ্টিতে ভেজা, অন্ধকার আর পচনশীল। অপরাধ এখানে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; গোটা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতীক।
ফিঞ্চার সহিংসতাকে সব সময় সরাসরি দেখাননি; ভয়াবহতার বড় অংশটাই ছেড়ে দিয়েছেন দর্শকের কল্পনার ওপর। ফলে যা দেখা যায় না, সেটিই হয়ে ওঠে আরও ভয়ংকর।
নব্বইয়ের দশকের ক্রাইম থ্রিলারের ভাষাই বদলে দিয়েছিল ছবিটি। আজকের বহু ডার্ক ক্রাইম সিরিজ ও সিনেমায় যে বৃষ্টিভেজা, বিষণ্ন, নৈতিকভাবে অন্ধকার আবহ দেখা যায়, তার অন্যতম পথিকৃৎ এই ‘সেভেন’।
‘ফাইট ক্লাব’ (১৯৯৯): পুরুষত্ব, ভোগবাদ ও নিজের সঙ্গে যুদ্ধ
মুক্তির সময় ‘ফাইট ক্লাব’ দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে তৈরি করেছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ছবিটি হয়ে ওঠে কাল্ট ক্ল্যাসিক।
এডওয়ার্ড নর্টন অভিনীত নামহীন এক ব্যক্তি ভুগতে থাকে করপোরেট জীবনের একঘেয়েমি আর অস্তিত্বের সংকটে। ব্র্যাড পিটের টাইলার ডারডেনের সঙ্গে পরিচয়ের পর আমূল বদলে যায় তাঁর জীবন। শুরু হয় গোপন ফাইট ক্লাব, যা পরে রূপ নেয় আরও বড় এক বিদ্রোহী আন্দোলনে।
ছবিটির চমক শুধু গল্পে নয়, নির্মাণেও। ভয়েসওভার, দ্রুত সম্পাদনা, ডিজিটাল ইফেক্ট, ভিজ্যুয়াল কৌতুক আর পরিচয় নিয়ে খেলা—সব মিলিয়ে ফিঞ্চার দাঁড় করিয়েছিলেন অস্থির এক মানসিক জগৎ।
তবে ছবিটিকে কেবল পুরুষের হতাশা কিংবা মারামারির সিনেমা ভাবলে ভুল হবে। ভোগবাদী সংস্কৃতি, করপোরেট জীবন, কৃত্রিম পরিচয় আর আধুনিক মানুষের নিজের অস্তিত্ব নিয়ে অসন্তোষ—সবকিছুকেই একসঙ্গে আঘাত করে এটি। সবচেয়ে বড় কথা, ছবির বক্তব্য নিয়ে দর্শককে শেষ পর্যন্ত অস্বস্তিতেই রেখে দেন ফিঞ্চার।
বিজ্ঞাপন
‘জোডিয়াক’ (২০০৭): রহস্যের চেয়ে বড় অনুসন্ধান
‘জোডিয়াক’ ফিঞ্চারের সবচেয়ে ধীরগতির সিনেমাগুলোর একটি। অথচ এই ধীরগতিই ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি।
১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল এক সিরিয়াল কিলার, যার পরিচয় আজও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। সেই বাস্তব ঘটনা নিয়ে তৈরি ছবিতে অভিনয় করেছেন জেক গিলেনহাল, রবার্ট ডাউনি জুনিয়র ও মার্ক রাফালো।
সাধারণ থ্রিলারে দর্শক অপেক্ষা করেন—খুনি কে, শেষ পর্যন্ত ধরা পড়বে কি না। কিন্তু ‘জোডিয়াক’ সেই প্রচলিত কাঠামোটাই ভেঙে দেয়। এখানে রহস্য সমাধানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে রহস্যের পেছনে ছুটতে ছুটতে মানুষের জীবন কীভাবে বদলে যায়, সেই প্রশ্নটি।
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্ররা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলেন ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক আর স্বাভাবিকতার সীমা। একসময় তদন্ত আর নিছক পেশা থাকে না, হয়ে ওঠে আবেশ। বাস্তবতার প্রতি ফিঞ্চারের এই সূক্ষ্ম মনোযোগ ছবিটিকে দেয় প্রায় তথ্যচিত্রের মতো অনুভূতি।
‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ (২০১০): ফেসবুকের জন্ম, বন্ধুত্বের মৃত্যু
ফিঞ্চারের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি হলো—‘সেভেন’ ও ‘ফাইট ক্লাব’-এর মতো অন্ধকার থ্রিলার বানানো পরিচালক কীভাবে ফেসবুকের জন্ম নিয়ে এত টানটান একটি সিনেমা বানাতে পারেন? উত্তরটা মেলে ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’-এ।
অ্যারন সরকিনের দ্রুতগতির, তীক্ষ্ণ সংলাপের সঙ্গে ফিঞ্চারের নিয়ন্ত্রিত পরিচালনা মিলে তৈরি হয় অসাধারণ এক আধুনিক নাটক। জেসি আইজেনবার্গের মার্ক জাকারবার্গ, অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের এডুয়ার্ডো স্যাভেরিন আর জাস্টিন টিম্বারলেকের শন পার্কার—তিন চরিত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা ও সাফল্যের গল্প হয়ে ওঠে ছবিটি।
এখানে কোনো সিরিয়াল কিলার নেই, নেই বন্দুকযুদ্ধ কিংবা রক্তাক্ত অপরাধ। তবু ফিঞ্চার দেখিয়ে দেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিজেই কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।
ছবিটির ঠান্ডা, নিয়ন্ত্রিত ভিজ্যুয়ালও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। চরিত্রগুলোর আবেগগত দূরত্ব যেন প্রতিফলিত হয় ছবির রং আর ক্যামেরার ভাষাতেও। ফিঞ্চারের পরিচালনার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যটি এখানে স্পষ্ট—সংলাপকেও তিনি অ্যাকশনের মতো উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
‘গন গার্ল’ (২০১৪): সম্পর্ক যখন অভিনয়
গিলিয়ান ফ্লিনের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে বানানো ‘গন গার্ল’ ফিঞ্চারের ক্যারিয়ারের অন্যতম নিখুঁত থ্রিলার। বেন অ্যাফ্লেক ও রোজামান্ড পাইক অভিনীত ছবিতে বিবাহিত দম্পতি নিক ও অ্যামির সম্পর্কের ভেতর ঢুকে পড়ে রহস্য, মিথ্যা আর গণমাধ্যমের উন্মাদনা।
অ্যামি নিখোঁজ হওয়ার পর নিক হয়ে ওঠে সন্দেহভাজন, শুরু হয় জনমতের বিচার। টেলিভিশন, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক ধারণা কীভাবে একজন মানুষকে অপরাধী বা নির্দোষ বানিয়ে দিতে পারে—সেই খেলাটিকেই নির্মমভাবে সামনে আনেন ফিঞ্চার।
ছবির মাঝামাঝি এসে বদলে যায় গল্পের দৃষ্টিভঙ্গি। দর্শক বুঝতে পারেন, এতক্ষণ যা দেখেছেন তার সবটা হয়তো সত্যি নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনটাই ‘গন গার্ল’-এর বড় শক্তি।
আর রোজামুন্ড পাইকের অ্যামি ফিঞ্চারের সিনেমার সবচেয়ে জটিল নারী চরিত্রগুলোর একটি। ভালোবাসা, প্রতিশোধ, আত্মপরিচয়, সামাজিক প্রত্যাশা—সবকিছু একসঙ্গে ধারণ করে চরিত্রটি।
তাঁর সিনেমায় মানুষই সবচেয়ে বড় রহস্য
ফিঞ্চারের সিনেমাকে কেবল ‘থ্রিলার’ বলা মানে তাঁর কাজের পরিধিকে ছোট করে দেখা। তাঁর প্রায় সব সিনেমার কেন্দ্রেই আছে মানুষ—তার ভয়, লোভ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, একাকিত্ব, আবেশ আর নিজের পরিচয় নিয়ে সংকট।
‘সেভেন’-এ মানুষ পাপের মুখোমুখি হয়। ‘ফাইট ক্লাব’-এ যুদ্ধ করে নিজের ভেতরের আরেক সত্তার সঙ্গে। ‘জোডিয়াক’-এ সত্য খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে ফেলে নিজের জীবন। ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’-এ সাফল্যের বিনিময়ে হারায় সম্পর্ক। আর ‘গন গার্ল’-এ স্বামী-স্ত্রী দুজনেই নিজেদের পরিচয়কে পরিণত করে অভিনয়ে।
তাই ফিঞ্চারের সিনেমায় অপরাধের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে অবসেশন—কোনো কিছু পাওয়ার, জানার কিংবা নিয়ন্ত্রণ করার অদম্য আকাঙ্ক্ষা।
নিখুঁততার প্রতি একরোখা
বিজ্ঞাপন
ফিঞ্চারের কাজের ধরন নিয়ে বলতে গেলে আসে তাঁর প্রযুক্তিনির্ভর নির্মাণশৈলীর কথাও। ক্যামেরা ও ডিজিটাল প্রযুক্তিকে তিনি কেবল দৃশ্য সুন্দর করার জন্য ব্যবহার করেন না; ব্যবহার করেন গল্পেরই অংশ হিসেবে।
‘ফাইট ক্লাব’-এ প্রযুক্তি দর্শককে ঢুকিয়ে দেয় চরিত্রের মানসিক জগতে। ‘জোডিয়াক’-এ ডিজিটাল নির্মাণ বাস্তবতার অনুভূতিকে করে তোলে আরও নিখুঁত। ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’-এ দ্রুত সম্পাদনা সংলাপকে নিয়ে যায় উত্তেজনার পর্যায়ে।
তাঁর কাজের আরেকটি বৈশিষ্ট্য অভিনয়ের সূক্ষ্মতা। ফিঞ্চারের চরিত্রগুলো অনেক সময় চিৎকার করে আবেগ প্রকাশ করে না। চোখের দৃষ্টি, থেমে যাওয়া, সংলাপ বলার গতি—এমন ছোট ছোট ব্যাপারেই তিনি তৈরি করেন উত্তেজনা। তাই তাঁর সিনেমায় ‘কী ঘটছে’ প্রশ্নটির পাশাপাশি সব সময় থেকে যায় আরেকটি প্রশ্ন—‘কেন ঘটছে?’
সিনেমার বাইরেও প্রভাব
ফিঞ্চারের প্রভাব কেবল চলচ্চিত্রে সীমাবদ্ধ নয়। টেলিভিশনেও তাঁর কাজ আধুনিক সিরিজ নির্মাণে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ‘হাউস অব কার্ডস’ ও ‘মাইন্ডহান্টার’-এর মতো সিরিজে তিনি কাজ করেছেন পরিচালক ও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে। ‘হাউস অব কার্ডস’-এর পাইলট পরিচালনার জন্য পেয়েছেন প্রাইমটাইম এমি পুরস্কারও।
বিশেষ করে ‘মাইন্ডহান্টার’-এ তাঁর ‘জোডিয়াক’-সুলভ অনুসন্ধানী, ধীর ও মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি পেয়েছে আরও বিস্তৃত রূপ। সেখানে সিরিয়াল কিলারের অপরাধের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় তার মনস্তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা। ২০২৩ সালে ‘দ্য কিলার’ দিয়ে আবারও তিনি ফেরেন ঠান্ডা মাথার এক পেশাদার খুনির গল্পে।
এখনো থামেননি ফিঞ্চার। ২০২৬ সালে ব্র্যাড পিটকে নিয়ে আসছে তাঁর নতুন সিনেমা ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব ক্লিফ বুথ’, যা যুক্ত ‘ওয়ানস আপন আ টাইম...ইন হলিউড’-এর জগতের সঙ্গে।
ডেভিড ফিঞ্চারের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা অনেকটা অন্ধকার ঘরে আয়নার সামনে দাঁড়ানোর মতো। প্রথমে মনে হয়, পর্দায় বুঝি অন্য কারও গল্প দেখছি। একটু পরেই বোঝা যায়, সেই গল্পের ভয়, লোভ, একাকিত্ব কিংবা আবেশ আমাদের ভেতরেও আছে। তাঁর সিনেমার চরিত্ররা নিখুঁত নয়, পৃথিবীও নয়, সত্যও সব সময় পরিষ্কার নয়। আর সম্ভবত সে কারণেই এত দিন পরও তাঁর সিনেমা দর্শককে টেনে রাখে। কারণ তিনি কেবল আমাদের ভয় দেখান না—সন্দেহ করতে শেখান।
আইএমডিবি, ভ্যারাইটি, স্ক্রিন র্যান্ট ও কোলাইডার অবলম্বনে